সাংবাদিকদের সামনে জীবিত ‘নিহত’ সাবেক সেনাকে হাজির করল পাকিস্তান
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে এক সাবেক পাকিস্তানি সেনা ও বিদ্রোহী কমান্ডারকে হত্যার দাবি করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। পরে তার ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে খবর প্রচার করে…
বাংলা রকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী ও নগর বাউল জেমসের জন্মদিন আজ। ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর জন্ম নেওয়া এই সংগীতশিল্পী শুক্রবার ৬৩ বছরে পা দিয়েছেন। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছেন তিনি।
আশির দশকে ‘স্টেশন রোড’ দিয়ে সংগীতজীবনের যাত্রা শুরু করেন জেমস। এরপর ‘অনন্যা’, ‘জেল থেকে বলছি’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া’, ‘পাগলা হাওয়া’সহ একের পর এক গান শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পায়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বলিউডেও ‘ভিগি ভিগি’, ‘আলবিদা’র মতো গান দিয়ে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন তিনি।
জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পূর্বাচল ক্লাবে নিজের দীর্ঘ সংগীতজীবন, বর্তমান সংগীতাঙ্গন, নতুন গান, প্রযুক্তি, তরুণ শিল্পী এবং প্রয়াত সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে সম্পর্কসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন জেমস। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন এন আই বুলবুল।
জন্মদিনে নিজের পরিবর্তন নিয়ে জানতে চাইলে জেমস বলেন, তার পরিবর্তন অন্যরাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি নিজে খুব একটা পরিবর্তন দেখেন না। মজা করে তিনি বলেন, শুধু মনে হয় মাথার চুল হয়তো কিছুটা কমেছে।
জন্মদিন নিয়ে বিশেষ কোনো আয়োজন আছে কি না জানতে চাইলে জেমস জানান, তিনি কখনো জাঁকজমক করে জন্মদিন পালন করেন না। ভক্তরা নিজেদের মতো করে বিভিন্ন আয়োজন করেন, আর তিনি দূর থেকেই সেসব দেখে ভালোবাসা অনুভব করেন। এবারও আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি।
জীবনকে কীভাবে দেখেন, এমন প্রশ্নের জবাবে জেমস বলেন, জীবনকে জটিলভাবে ভাবার প্রয়োজন নেই। নিজের মতো করে বাঁচা এবং নিজের ভালো করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, সবাই যদি নিজের ভালো করার চেষ্টা করে, তাহলে সামগ্রিকভাবেই দেশের ভালো হবে।
নিজের আনন্দ ও দুঃখের প্রসঙ্গে জেমস বলেন, জীবনকে আনন্দ নিয়েই এগিয়ে নিতে হয়। তিনি সবকিছুর মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি সাংবাদিকদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়াকেও তিনি বড় আনন্দ হিসেবে দেখেন। জীবনে দুঃখ ধরে রাখার পক্ষে নন তিনি। তার মতে, দুঃখকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
বর্তমান সংগীতাঙ্গনের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের মত তুলে ধরেন জেমস। তিনি বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সংগীতও অনেক বদলে গেছে। একসময় ফটোগ্রাফির ফিল্মের যুগে ফটোগ্রাফারের আলাদা গুরুত্ব ছিল। কিন্তু স্মার্টফোনের যুগে প্রায় সবাই ছবি তুলতে পারছেন। সংগীতের ক্ষেত্রেও অনেকটা একই পরিবর্তন এসেছে।
জেমসের ভাষায়, সংগীত এখন অ্যানালগ মাধ্যম থেকে ডিজিটাল হয়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে চলে এসেছে। ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শ্রোতারা সহজেই গান শুনতে পারছেন। এতে গানের আর্থিক মূল্য আগের মতো নেই বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের প্রসঙ্গে জেমস বলেন, এখন যারা গান করছেন, তাদের অনেকেই তাদের সময়ের শিল্পীদের তুলনায় বেশি প্রতিভাবান। তবে তার সময়ের সংগীতশিল্পীরা ভাগ্যবান ছিলেন বলেও মনে করেন তিনি। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন পেশাগতভাবে গান তৈরি করে শুধু গান থেকে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, বর্তমানে যারা লাইভ পারফরম্যান্সে ভালো করতে পারবেন, তারা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকতে পারবেন।
নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে জেমস বলেন, নতুন গান করার ইচ্ছা তার রয়েছে। তবে কবে নতুন গান প্রকাশ করবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় বলতে পারছেন না। কনসার্ট, দেশ-বিদেশে সফর এবং লাইভ শোর ব্যস্ততার কারণে নতুন গান তৈরির জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে বলেও জানান তিনি।
তরুণ শিল্পীদের তার গান কাভার করার বিষয়টিকেও ইতিবাচকভাবেই দেখেন জেমস। তিনি বলেন, গান মানুষের শোনার জন্যই তৈরি হয়। যে যার মতো করে গান গাইতে পারে, এতে বাধা দেওয়ার কিছু নেই। সংস্কৃতিকে তিনি নদীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, নদী যেমন নিজের গতিতে বয়ে চলে, সংস্কৃতিকেও তেমন নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হয়। সেখানে বাধা বা নিষেধ তৈরি করা ভালো নয়।
সংগীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের প্রভাব নিয়েও কথা বলেন জেমস। তার মতে, সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে এবং এআই শুধু সংগীত বা ছবির ক্ষেত্রেই নয়, কোডিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনছে। সংগীতশিল্পীদের এআই বা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকলে তা কাজে লাগানো উচিত বলেও মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিল্পী মূলত নিজেদের আগ্রহ ও ভালোবাসা থেকেই গান করছেন।
কবি শামসুর রাহমানের লেখা ‘তারায় তারায়’ গানটির স্মৃতিও তুলে ধরেন জেমস। তিনি জানান, এই গানটি ছাড়াও শামসুর রাহমান তার জন্য আরও কয়েকটি গান লিখেছিলেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেগুলো রেকর্ড করা হয়নি, কারণ গানগুলো হারিয়ে গেছে। ‘তারায় তারায়’ গানটির সঙ্গে তার অনেক চমৎকার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বর্তমানে মঞ্চে যে গানগুলো পরিবেশন করেন, সেগুলোর মধ্যে এটিও তার অন্যতম প্রিয় গান বলে জানান তিনি।
প্রয়াত সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ও একসময়ের সংগীত প্রতিযোগিতার স্মৃতিও তুলে ধরেন জেমস। তিনি বলেন, বাচ্চুর সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব ভালো ছিল। তাদের মধ্যে গানের একটি সুস্থ ও সুন্দর প্রতিযোগিতা ছিল। সে সময় একজন শিল্পী অন্য শিল্পীর রেকর্ডিংয়েও যেতেন। কেউ স্টুডিওতে রেকর্ড করলে অন্যজন সেখানে গিয়ে বসতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টুডিওতে আড্ডা, গান নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় হতো।
বর্তমানে সেই পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে বলে মনে করেন জেমস। এখন অনেকেই হোম স্টুডিওতে কাজ করেন, ফলে আগের মতো একসঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ কমে গেছে।
আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে শেষ কথোপকথন সম্পর্কে জানতে চাইলে জেমস বলেন, সেই কথাটি তিনি প্রকাশ করতে চান না। সেটি শুধু তার নিজের মধ্যেই রাখতে চান। তবে মাঝে মাঝে বাচ্চুর ওপর তার খুব রাগ হয়, কারণ এত তাড়াতাড়ি কেন তিনি সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন। দুজনের শেষ দেখা হয়েছিল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে।
আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রিয় শিক্ষক সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জেমস বলেন, জীবনের চলার পথে তিনি অনেকের কাছ থেকেই শিখেছেন। তার মতে, জীবনে শেখার কোনো শেষ নেই। তাই কাকে রেখে কার কথা বলবেন, সেটিই বরং কঠিন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au