পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৯। ছবি: সংগৃহীত
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পুলিশের ওপর হামলা করে হাতকড়া পরানো অবস্থায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ওই নেতাসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা হলেন ম. আবু ছিদ্দিক (৭০)। তিনি কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য।
দর্শনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুখলেসুর রহমান জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আবু ছিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বুধবার রাতে তাকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং হেফাজতে থাকা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন লক্কন হালদার (৩৮), ফিরোজ হোসেন (১৯), ফরহাদ হোসেন (১৯), সোনালী হালদার (৩০), কোনা রানি (২৫), নাসিমা বেগম (৪০), আলম বাদশা (৫৫) ও ফুলন হালদার (৩২)। তাদের সবার বাড়ি চণ্ডীপুর পূর্বপাড়ায়।
পুলিশ জানায়, আবু ছিদ্দিককে ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তার সঙ্গে থাকা হাতকড়াটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
দর্শনা থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজ-উল-ইসলাম বলেন, পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং হেফাজতে থাকা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্লা আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় মামলা করেছেন।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে চণ্ডীপুর পূর্বপাড়ার সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরের সামনে একটি দল জড়ো হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এমন খবর পেয়ে সেখানে যান এসআই মোল্লা আরিফুল ইসলাম। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েকজন সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আবু ছিদ্দিককে আটক করে হাতকড়া পরানো হয়।
পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে থাকা লোকজন পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে তারা পুলিশের কাছ থেকে আবু ছিদ্দিককে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
দর্শনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুখলেসুর রহমান বলেন, ‘কোনো অপরাধী পুলিশের চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে না। আবু ছিদ্দিককে ছিনিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’