ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। ছবি : রয়টার্স
শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার দেশটির প্রায় ৪০০ স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের প্রতিবাদে গত মাসে রাজধানী প্যারিস অঞ্চলে এই আন্দোলনের শুরু। পরে তা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রায় দুই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন।
শুক্রবার আরটিএল রেডিওকে দারমানিন বলেন, বিক্ষোভে একটি ‘সক্রিয় ও সহিংস সংখ্যালঘু’ অংশ নিচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সবাই উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি। গ্রেপ্তারদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
দারমানিন বলেন, ‘আমরা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার পর্যায়ে চলে গেছি। বাসে হামলা বা স্কুলে আগুন দেওয়ার ঘটনা আর শুধু বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।’
ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্রান্স-২ টেলিভিশনকে জানান, শুক্রবার ৪০০টির কিছু বেশি স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবারের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সংকট বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করে, কট্টর বামপন্থি রাজনীতিকদের একটি অংশ এই আন্দোলন উসকে দিয়েছে। তাদের মধ্যে লা ফ্রান্স ইনসুমিজ (এলএফআই)-এর সদস্যরাও রয়েছেন বলে বৈঠকে জানানো হয়।
তবে এলএফআইয়ের আইনপ্রণেতা লুই বোয়ার্ড ফরাসি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা অন্তত দুটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দক্ষিণাঞ্চলীয় মার্সেই শহরে একটি স্কুলে শিক্ষকদের গায়ে ভুলবশত পেট্রল ছিটকে পড়ে। পূর্বাঞ্চলীয় স্ত্রাসবুর্গে অন্তত একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তুলুজে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে তরুণদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
এদিকে প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরেও বৃহস্পতিবার কয়েকটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার শহরের সব স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে লিয়েজ শহর প্রশাসনের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেননি।
সূত্র : রয়টার্স