দুই দফা ইনজেকশনেও মরেননি ক্রিস্টা, এবার কী হবে?
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে জেল কর্তৃপক্ষ। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের দুই ডোজ দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক।…
বারবার নেওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ এবং মিত্র দেশগুলোর আমানত নবায়ন বা মেয়াদ বাড়ানোর ওপর নির্ভর করেই বৈদেশিক তারল্য ধরে রাখছে পাকিস্তান। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে এই নির্ভরতার বড় মূল্য দিতে হচ্ছে দেশটিকে বলে মনে করেন দেশটির রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. নিয়াজ মুর্তাজা।
সংবাদমাধ্যম ডনে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে মুর্তাজা বলেন, পাকিস্তানের শাসকেরা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার চেয়ে ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে মিত্র দেশগুলোকে অর্থায়নে আগ্রহী করছেন। তবে এসব সহায়তাকে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি সক্ষমতায় রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি।
তার মতে, বিদেশি সহায়তার অর্থ উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পরিবর্তে ভোগ, আমদানি ও আবাসন খাতে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে ডলার আয় করার তুলনায় ব্যয় বেড়েছে এবং বারবার বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে পড়েছে পাকিস্তান।
মুর্তাজার মতে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফের শাসনামলে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা, ঋণ পুনর্গঠন, বিদেশি বিনিয়োগ ও পোর্টফোলিও বিনিয়োগ মিলিয়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রবাহিত হয়েছিল।
তবে ওই সময়েও শক্তিশালী রপ্তানি ভিত্তি গড়ে ওঠেনি। বরং অর্থের একটি বড় অংশ ভোগ ও আমদানিতে ব্যয় হওয়ায় ২০০৮ সালে পাকিস্তানের চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ৮ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছায়। এতে দেশটি বড় ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে পড়ে।
এরপর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসির আওতায় জ্বালানি ও সড়ক অবকাঠামোতে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ আসে। এতে পাকিস্তানের জ্বালানি সংকট কিছুটা কমলেও রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী হয়নি। ২০১৮ সালে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছায়।
এর পর থেকেই আইএমএফের ঋণ এবং বিভিন্ন মিত্র দেশের আমানতের ওপর পাকিস্তানের নির্ভরতা আরও বেড়ে যায়।
মুর্তাজার হিসাবে, ২০১৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৩৬ শতাংশের সমপরিমাণ ছিল বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর আমানত। ২০২৩ সালের শুরুতে তা বেড়ে প্রায় ৬০০ শতাংশে দাঁড়ায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমানে পাকিস্তানের কাছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ ঋণ এবং সৌদি আরবের ৮ বিলিয়ন ও চীনের ৪ বিলিয়ন ডলারের আমানত রয়েছে বলেও তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুর্তাজার দাবি, এসব অর্থ সরাসরি উৎপাদন, কর্মসংস্থান বা রাজস্ব আয় বাড়ানোর প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে না। বরং মূলত বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি সামাল দিতে এসব ঋণ ও আমানত ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে রিজার্ভে সাময়িক স্বস্তি এলেও অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা কাটছে না।
পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান কিছুটা ভিন্ন বলেও মনে করেন মুর্তাজা। তার মতে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে পাকিস্তানের মতো বিদেশি রাষ্ট্রের বড় অঙ্কের আমানতের ওপর নির্ভরতা নেই। একই সঙ্গে রিজার্ভের তুলনায় বাংলাদেশের আইএমএফ ঋণের পরিমাণও কম।
মুর্তাজার দেওয়া হিসাবে, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যেখানে পাকিস্তানের রপ্তানি প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার।
ডনে প্রকাশিত বিশ্লেষণে মুর্তাজা বলেন, গত চার বছরে পাকিস্তানের বর্তমান ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অর্জন হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা। তবে শক্তিশালী রপ্তানি ভিত্তি ও টেকসই প্রবৃদ্ধি না থাকলে এই স্থিতিশীলতা শেষ পর্যন্ত স্থবিরতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তার মতে, আইএমএফের শর্ত এবং বিদেশি রাষ্ট্রের আমানতের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
সব মিলিয়ে পাকিস্তানের সামনে দুটি কঠিন পথ রয়েছে বলে মনে করেন এই গবেষক। একটি হলো ধীরগতির প্রবৃদ্ধি মেনে নিয়ে সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি নেওয়া। অন্যটি হলো আমদানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে আবারও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে পড়া।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ঋণ ও বিদেশি আমানতের ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তানের অর্থনীতি কতদিন এভাবে টিকে থাকতে পারবে।
সূত্র : রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au