ইয়েমেনে হুথি ও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সংঘর্ষে ৮০ জনের বেশি নিহত
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টার সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। দেশটির বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায়…
ঢাকায় বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে দিনটি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মহাত্মা গান্ধীর সত্য, অহিংসা ও নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ স্মরণ করা হয়। সমকালীন সমাজে এসব আদর্শের প্রাসঙ্গিকতার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পোস্টার তৈরি ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মহাত্মা গান্ধীর জীবন, চিন্তা ও কর্মকে কেন্দ্র করে এসব প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কুইজ প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন বাংলাদেশের কুইজ উপস্থাপক ফেরদৌস বাপ্পী।
এরপর ‘সেবা পক্ষ ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ধর্মের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে এ পর্ব শুরু হয়। পরে মহাত্মা গান্ধীর আবক্ষ ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সংগীতশিল্পীদের সংগঠন গীতিমালিকার শিল্পীরা গান্ধীর প্রিয় গান ‘বৈষ্ণব জন তো’, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’ ও ‘রঘুপতি রাঘব’ পরিবেশন করেন। পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীতও পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে খাদি পোশাকের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশি ডিজাইনার বিপ্লব সাহার নেতৃত্বে বিশ্বরঙ এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে দেশীয় খাদি পোশাক ও নকশার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগীতদল কৃষ্ণপক্ষ পরিবেশন করে লোকগানের সঙ্গে আধুনিক সংগীতের সংমিশ্রণ। তাদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে ভিন্নধর্মী সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানস্থলে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাদি ও হস্তশিল্পের বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনী ও স্টলও ছিল। ফ্রেন্ডশিপের (নদী লিমিটেড) এবং কুমিল্লার খাদি ঘরের প্রদীপ কান্তি সাহার খাদিপণ্যের স্টলে বিভিন্ন ধরনের খাদি সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়।
এ ছাড়া নোয়াখালী ও জামালপুরের গান্ধী আশ্রমের বিভিন্ন নিদর্শনও অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। এসব প্রদর্শনীর মাধ্যমে গান্ধীর সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য, বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, তরুণ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মহাত্মা গান্ধীর সত্য, অহিংসা ও নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শের কথা স্মরণ করেন। তিনি সমকালীন সমাজে এসব আদর্শের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং দেশীয় খাদি ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ঢাকায় মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীর আয়োজন শেষ হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au