এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না দোকানে, বেশি দামে মিলছে ডিলারের কাছে
বরিশাল নগরীতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডারের। খুচরা দোকানগুলোতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে অতিরিক্ত টাকা দিলে ডিলারের মাধ্যমে সিলিন্ডার…
দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন ওমানের নাগরিক সহকারী পাইলট হামাম আলহামামি। উড়োজাহাজটিতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৪ জন শিশু। উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় হামামি ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে ক্রু ও যাত্রীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিকল্প পাইলটরা উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিরাপদে অবতরণ করান।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজ চালানোর অনুমতি পাওয়ার আগেই হামামি ওমানের কাছে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। উগ্রপন্থি মতাদর্শে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কায় তাকে উড়োজাহাজ চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাম আলহামামি ওমানের নাগরিক। সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্ম নেওয়া তার বাবা ওমানি এবং মা সিরীয়। তিনি জীবনের বড় একটি সময় ওমানের বাইরে, বিশেষ করে সিরিয়ায় কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি উগ্রপন্থি মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালে ওমান এয়ারে সহকারী পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় হামামির কাছে উগ্রপন্থি বিষয়বস্তু পাওয়া যায় বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তাকে প্রশাসনিক দায়িত্বে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হলেও নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় উড়োজাহাজ চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে পরবর্তী সময়ে দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই তাকে নিয়োগ দেয়। এর ফলে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত দুবাই-তেলআবিব রুটে উড়োজাহাজ চালানোর সুযোগ পান তিনি। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন হামামি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে হামামি মাত্র আট মাস ওই সংস্থায় কাজ করেছিলেন। হামাম আলহামামি নামে একটি পরে মুছে ফেলা লিংকডইন প্রোফাইলে দাবি করা হয়েছিল, তিনি সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখান থেকে চাকরি ছাড়েন।
ওই প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে হামামি রয়্যাল এয়ার মারক নামের একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে চাকরি ছাড়ার পর তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন বলে প্রোফাইলে উল্লেখ ছিল।
ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টার মধ্যে ওই মুছে ফেলা লিংকডইন প্রোফাইল থেকে দুটি পোস্ট দেওয়া হয়েছিল বলেও সিএনএনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পোস্ট দুটির বিষয়বস্তু ছিল সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত।
প্রথম পোস্টে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের ককপিটের কয়েকটি ভিডিও ছিল। একটি ভিডিওতে ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল আলের একটি উড়োজাহাজের দিকে ক্যামেরা জুম করা হয়। পরে ভিডিওটি আল-কায়েদার সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর সংগঠনটির নেতৃত্ব দেওয়া আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আত্মঘাতী হামলায় নয়জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাওয়ির ছবি দিয়ে শেষ হয় বলে সিএনএন জানিয়েছে।
অন্য পোস্টটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের তিন পবিত্র স্থানের ছবি ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পোস্টের পেছনে থাকা কবিতায় অপমান প্রত্যাখ্যান, মৃত্যুকে ভয় না পাওয়া এবং মর্যাদা রক্ষার মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল।
সিএনএনের আরেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামামির মুছে ফেলা এক্স অ্যাকাউন্টে তাকে ধর্মপ্রাণ ও নারীবিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
ঘটনার দিন ১৭০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। এ সময় উড়োজাহাজটি হঠাৎ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে প্রতি মিনিটে প্রায় ২৩ হাজার ফুট গতিতে নিচে নেমে এটি প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় চলে আসে।
এই পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে হামামি ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আহত হওয়ার পরও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর ক্রু ও যাত্রীরা হামামিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উড়োজাহাজের ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ককপিটের বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় থাকা ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে বলতে শোনা যায়, তার সহকারী পাইলট তাকে আঘাত করেছেন।
এ সময় সামনের দিকে থাকা কয়েকজন যাত্রী হামামিকে ককপিট থেকে দূরে সরিয়ে নেন। তাদের মধ্যে ইয়ানিভ হায়ুন হামামিকে ধরে শ্বাসরোধ করে ককপিট থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সময়ে একজন দন্ত চিকিৎসক আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে সহায়তা করেন।
এরপর উড়োজাহাজের পেছনে থাকা আরও দুইজন বিকল্প পাইলট ককপিটে গিয়ে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন। তারা উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুকের দিকে নিয়ে যান। পরে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি সেখানে নিরাপদে অবতরণ করে।
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে হামাম আলহামামির অতীত, তার প্রশিক্ষণকালীন তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন দাবি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au