পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে লাগা চোট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ওই চোটের ঘটনা ‘ভুয়া’ ছিল এবং এর পক্ষে তাঁর কাছে নথিপত্র রয়েছে।
শুক্রবার নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের পক্ষে প্রচারে গিয়ে বিরুলিয়া বাজারের এক সমাবেশে এ দাবি করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, তাঁকে এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করা হলে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন।
শুভেন্দুর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলেন। হাসপাতাল কমিটির সভাপতি হিসেবে তাঁর কাছে মমতার চিকিৎসার সময়কার একটি নথির কপি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই নথিতে মমতার পায়ে কোনো ফ্র্যাকচার বা হাড় সরে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শুভেন্দু আরও দাবি করেন, চলন্ত গাড়ির খোলা দরজা রাস্তার পাশের একটি লোহার খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে মমতার পায়ে আঘাত করেছিল। তাঁর অভিযোগ, পরে ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয় এবং নন্দীগ্রামকে এ ঘটনায় ‘অপমান’ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের ওই ঘটনার পর সিআইডি স্থানীয় নেতাদের বারবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল। বিষয়টি তিনি ভুলে যাননি বলেও মন্তব্য করেন।
এর আগে শনিবার কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেও শুভেন্দু মমতার চোট নিয়ে একই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, মডেল কোড অব কন্ডাক্ট শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করবেন এবং বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তদন্ত করা হবে।
২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া এলাকার রেয়াপাড়ায় নির্বাচনী প্রচারের সময় আহত হন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ির খোলা দরজার দিকে ফেলে দেয়। পরে হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সমর্থকদের ভিড় গাড়ির ওপর চাপ সৃষ্টি করায় তাঁর পা চাপে পড়ে আহত হয়।
তৎকালীন চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে তাঁর বাঁ গোড়ালি ও পায়ে হাড় ও লিগামেন্টে আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ডান কাঁধ, বাহু, ঘাড় ও কোমরেও ব্যথার কথা জানানো হয়। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসার পর ১২ মার্চ বাঁ পায়ে কাস্ট নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি হুইলচেয়ারে বসে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন।
তবে শুভেন্দুর বর্তমানে উদ্ধৃত করা চিকিৎসা নথিতে ফ্র্যাকচার বা ডিসলোকেশনের প্রমাণ না থাকার দাবি উঠেছে। চিকিৎসা নথিতে ফ্র্যাকচার না থাকার তথ্য একাই মমতার পুরো আঘাতের ঘটনা ‘ভুয়া’ প্রমাণ করে কি না, তা নিয়ে আলাদা প্রশ্ন রয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৬টি এবং বিজেপি ৭৭টি আসনে জয় পায়।