শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে আসলে কি বোঝাতে চাচ্ছেন ভারতীয় হাইকমিশনার
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়া এবং তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে নতুন করে…
ওটিএন বাংলা ডেস্ক: বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়ের কাছে ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার প্রতীকী ‘ব্রোকেন চেয়ার’ ভাস্কর্যসংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

জেনেভার প্লাস দে নাসিয়ঁতে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সমঅধিকার ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভকারীরা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। OTN Bangla
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম নিয়মিত অধিবেশন চলাকালে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেনেভার পালে দে নাসিয়ঁতে অধিবেশনটি ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অমরেন্দ্র রায়, পলাশ বড়ুয়া, সুমন চক্রবর্তী, সুনীল চাকমা সহ অনেকে। অংশগ্রহণকারীদের প্রধান দাবি ছিল বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া।
বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পর্যবেক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং প্রতিরোধে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা। বিক্ষোভে হিন্দু সন্ন্যাসী ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি এবং তাঁর জন্য ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি ওঠে।
প্যারিস টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২৬ সালে কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলা বিচারাধীন থাকায় তিনি মুক্তি পাননি। এর মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামের আদালতের বাইরে সহিংসতায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের মৃত্যুর ঘটনাসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা তাঁর আটকাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন বন্ধ এবং সংখ্যালঘু নারী ও মেয়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। মন্দিরে হামলা ও অবমাননা এবং ঘরবাড়ি লুটের অভিযোগ তুলে এসব ঘটনার জবাবদিহিও দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ছবিসংবলিত একটি প্ল্যাকার্ডে তাঁকে মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত যুক্তরাজ্য সরকারের দেশবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৃহত্তম ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ১ কোটি ৩০ লাখ। বাংলাদেশের সংবিধানে অন্যান্য ধর্মের সমান মর্যাদা ও অধিকারের বিধান থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে ওই তথ্যে উল্লেখ করা হয়।
প্যারিস টেলিগ্রাফ আরও জানায়, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গত জুলাইয়ে প্রকাশিত হিসাবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা এবং ৪৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে উপাসনালয়, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের নিরাপত্তা, ভূমির অধিকার এবং সামরিকীকরণ নিয়েও পৃথক উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। একটি ব্যানারে পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘জাতিগত নির্মূল বন্ধের’ দাবি জানানো হয়। অন্য দাবিগুলোর মধ্যে ছিল আদিবাসীদের জাতিগত ও ভূমির অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া।
সমাবেশের আকার ছোট হলেও অংশগ্রহণকারীরা জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছাকাছি অবস্থান করে তাঁদের উদ্বেগ আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে চেয়েছেন।
তাঁদের বক্তব্যের মূল কথা ছিল—সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু নির্বিশেষে সব নাগরিককে আইনের অধীনে সমান সুরক্ষা, মর্যাদা ও অধিকার দিতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মনোযোগও কামনা করেন তাঁরা।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au