ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা
হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…
হাইতিতে চলতি বছরের শুরু থেকে গ্যাং সহিংসতা ও তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে ৫ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, একই সময়ে হাইতিতে ২৩০ জনের বেশি মানুষ অপহৃত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
শুক্রবার হাইতির পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, নিহত ও আহতদের অর্ধেকের বেশি গ্যাংবিরোধী অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হতাহত হয়েছেন। এ সময় বিপথগামী গুলি এবং বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোনের হামলায়ও শত শত মানুষ হতাহত হয়েছেন।
হাইতিতে কয়েক দশক ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র গ্যাং নিজেদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে গ্যাং সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০২১ সালের ৭ জুলাই দেশটির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজ হত্যার পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শূন্যতা গ্যাংগুলোকে আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দেয়। এরপর তারা একের পর এক নতুন এলাকা দখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বাড়াতে থাকে।
ভলকার তুর্ক বলেন, গ্যাংগুলো ক্রমাগত নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করছে এবং নতুন নতুন এলাকায় বিস্তৃত হচ্ছে। জাতিসংঘের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, তারা নতুন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথ দখলের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এর ফলে দেশটির স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও বড় হুমকির মুখে পড়েছে।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের পরিচালিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমেছে বলেও জানান তুর্ক। তারপরও গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে থাকা ব্যক্তিরা এখনো তাৎক্ষণিক হত্যার বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
হাইতিতে শিশুদের গ্যাংয়ে নিয়োগের হারও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাংগুলোতে শিশুদের নিয়োগ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ভলকার তুর্ক বলেন, অনেক অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছে গ্যাংয়ে যোগ দেওয়া এখন বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় বলে মনে হতে পারে। কোনো শিশুকে নিজের জীবন এবং প্রতিবেশীদের নিরাপত্তার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, ২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো আগামী ১৩ ডিসেম্বর হাইতিতে প্রেসিডেন্ট ও আইনসভা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তবে দেশটির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তার মতে, চলতি বছরে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হবে, তা কল্পনা করাও কঠিন।
গ্যাং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ২০২৫ সাল থেকে হাইতিতে একটি বহুজাতিক পুলিশ বাহিনী কাজ করছে। সংঘাতকবলিত দেশটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণ কমানোই এই বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। তবে গ্যাংয়ের দখলে থাকা এলাকাগুলোতে প্রবেশ এবং সেখানে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে বাহিনীটিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
জাতিসংঘের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, গ্যাংগুলোর ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে হাইতির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ভয়াবহ সংকটের মধ্যে রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au