শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে আসলে কি বোঝাতে চাচ্ছেন ভারতীয় হাইকমিশনার
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়া এবং তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে নতুন করে…
ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে জনপ্রিয় মেকআপ আর্টিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাইকে করে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে ম্যাড সান্ধুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। অমৃতসরের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সিরিভেনেলা বলেন, দুই ব্যক্তি সান্ধুকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে। ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ডের পর ‘গোল্ডি ধিলন’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ঘটনার দায় স্বীকার করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, ম্যাড সান্ধু পাঞ্জাবকে ‘নষ্ট’ করছিলেন। তবে পোস্টটি সত্যিই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ পোস্টটির সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে।
নিহত ব্যক্তির পুরো নাম মধুসূদন। তবে ফ্যাশন, সৌন্দর্যচর্চা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘ম্যাড সান্ধু’ নামেই পরিচিত ছিলেন। ফ্যাশন স্টাইলিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সান্ধু পরবর্তী সময়ে মেকআপ আর্টিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
সামাজিক রীতিনীতি, জীবনযাপন এবং এলজিবিটিকিউ প্লাস অধিকার নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলতেন। অভিনয়েও তার পরিচিতি ছিল। ‘ওই ভোলে ওই’ প্রকল্পের মাধ্যমে অভিনয় জগতে তিনি পরিচিতি পান। নিজের পরিচয় ও মতামত প্রকাশের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে প্রায়ই তীব্র ট্রোলিং ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব সমালোচনা ও অনলাইন হয়রানির মধ্যেও নিজের পরিচয় গোপন করেননি সান্ধু। বরং নিজের পরিচয় নিয়ে তিনি প্রকাশ্যেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতেন। তার একটি পরিচিত বক্তব্য ছিল, ‘ঈশ্বর আমাকে এভাবেই তৈরি করেছেন।’
পুলিশ এখন হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া হুমকি, পরিচয় বা কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শত্রুতা এবং সম্ভাব্য গ্যাং-সম্পর্কিত কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে হত্যার দায় স্বীকার করে দেওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টটিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
পাঞ্জাবে সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ২০২৫ সালের জুনে জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার কাঞ্চন কুমারী, যিনি কমল কৌর ভাবি নামে পরিচিত ছিলেন, একই ধরনের সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হন। অশ্লীল কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ তুলে একজন উগ্রপন্থী তাকে হত্যা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই ব্যক্তিকে দুবাই থেকে ভারতে এনে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া ম্যাড সান্ধু হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে পাঞ্জাবের লুধিয়ানার মুল্লানপুর এলাকায় লাদি খান নামে এক ব্যক্তিকে গাড়ির ভেতর গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায়ও অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা জড়িত ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। লুধিয়ানা পুলিশ পুরোনো শত্রুতা, গ্যাং-সম্পর্কিত বিরোধসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ সামনে রেখে তদন্ত করছে।
ম্যাড সান্ধু হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় বা হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দায় স্বীকারের পোস্টটির সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au