শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে আসলে কি বোঝাতে চাচ্ছেন ভারতীয় হাইকমিশনার
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়া এবং তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে নতুন করে…
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পূজামণ্ডপের ছয়টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ইসমাইল হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রায় ছয় মাস আগে আরেকটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায়ও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। ওই মামলায় জামিনে থাকা অবস্থায় এবার আবারও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন ইসমাইল। এলাকায় ‘সাইকো ইসমাইল’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তিকে ঘিরে আগের ও বর্তমান ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গত ৩ অক্টোবর টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসমাইলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তিনি উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী পশ্চিমপাড়া গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী পশ্চিমপাড়া আর্য সমিতির পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরদিন ১ অক্টোবর মণ্ডপের সভাপতি প্রকাশ বাকালী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। পরে তদন্তের একপর্যায়ে ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আগেও প্রতিমা ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার
ইসমাইলের বিরুদ্ধে একই ধরনের ঘটনায় আগেও গ্রেপ্তারের নজির থাকায় এবারের গ্রেপ্তার নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে আরেকটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই মামলায় বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
পুলিশের দাবি, আগের ঘটনায়ও ইসমাইলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের নজির রয়েছে। ফলে এবারও তাকে সন্দেহের আওতায় এনে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে বর্তমান ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কী কী প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে।
এলাকায় পরিচিত ‘সাইকো ইসমাইল’ নামে
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ইসমাইল সম্পর্কে নানা তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকায় তিনি ‘সাইকো ইসমাইল’ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অনেকটা ভবঘুরের মতো জীবনযাপন করেন। ইচ্ছা হলে কাজ করেন, আবার ইচ্ছা না হলে করেন না। কখনো চুপচাপ থাকেন, আবার কখনো হঠাৎ রেগে যান। স্থানীয়দের কেউ কেউ তার আচরণকে মানসিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে থাকেন। তবে এসব তথ্যের চিকিৎসাগত সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ইসমাইলের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, মানসিক সমস্যার কারণে এখনো ইসমাইলের সংসার করা হয়নি। তার এক বোনেরও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করে ঘটনা ধামাচাপা না দিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, প্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে জন্য ঘটনার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া জরুরি।
৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শাখাওয়াত ইমতিয়াজ বলেন, গ্রেপ্তার ইসমাইলের বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনায় আগেও গ্রেপ্তারের নজির রয়েছে। তার মানসিক অবস্থার বিষয়ে কিছু তথ্যও পাওয়া গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানানো হলে তা বিবেচনা করা হতে পারে।
তিনি জানান, ইসমাইলকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au