আসন্ন বড় খাদ্য সংকটের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ,…
চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের এক ছেলের ওপর নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। রবিবার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এফবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার নারীর নাম ওয়ানিং ঝাং, যিনি হেদার নামেও পরিচিত। ৩৪ বছর বয়সী ঝাং ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইনের বাসিন্দা। চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধন না করে বিদেশি সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের এক ছেলের ওপর নজরদারি চালিয়েছেন ঝাং। সংস্থাটি প্রথমে তার লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। পরে নিউইয়র্ক পোস্টের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লাই টিং-ইউ ওই ব্যক্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ, ২০২৫ সালে চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঝাং সিয়াটলে যান। সেখানে তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলে ও তার পরিবারের ওপর নজরদারি করেন এবং তাদের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি পরিবারের ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর প্লেটের তথ্যও চীনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ক্যালিফোর্নিয়ার কেন্দ্রীয় জেলার প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসসায়লি বলেন, ঝাং নিজের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড গোপন রাখতে গুপ্তচরবৃত্তির বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছেন। তিনি যে একটি বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করছিলেন, সে বিষয়টিও মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঝাংয়ের পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। তাকে সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও। ঝাংয়ের কর্মকাণ্ডকে তাইওয়ানের নাগরিকদের বিরুদ্ধে আন্তর্দেশীয় নিপীড়নের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা। একই সঙ্গে তাইওয়ানি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও বলেন, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে উপেক্ষা করে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায় তাইওয়ান। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া দেয়নি।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এবং তার রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি চীন থেকে তাইওয়ানের আলাদা পরিচয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। এ অবস্থান বেইজিংয়ের সঙ্গে তাইওয়ানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধকে আরও স্পষ্ট করেছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। অন্যদিকে লাই চিং-তে বলে আসছেন, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল তাইওয়ানের জনগণের।
তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও দেশটি তাইওয়ানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক ও প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। ফলে চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যের ওপর নজরদারির এই অভিযোগ ওয়াশিংটন, বেইজিং ও তাইপের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au