আসন্ন বড় খাদ্য সংকটের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ,…
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবি এবং বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নতুন করে জটিল হয়ে উঠেছে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি এখন সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও তার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে কিছু বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে যাওয়ার সময় তাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যায়নি।
ভারতীয় হাইকমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ভারতে পৌঁছানোর পর ভারতের সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না এবং তার আগমনও ছিল এমন একটি পরিস্থিতি, যার জন্য ভারত আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না। তবে কূটনৈতিক হিসেবে তিনি সরাসরি বিষয়টি না বললেও বাস্তবতা হলো, শেখ হাসিনাকে ঢাকা থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজে।
দীনেশ ত্রিবেদী আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়ার সময় শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার প্রত্যর্পণ নিয়ে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগে।
তবে শেখ হাসিনা গত ডিসেম্বর মাসে দেওয়া একাধিক বক্তব্যে নিজের ইচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে আসার কথা বলেছিলেন। বিষয়টি ভারতীয় পক্ষের সাম্প্রতিক বক্তব্যে আলাদাভাবে গুরুত্ব পায়নি।
বদলে গেছে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক
একসময় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হিসেবে বিবেচিত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক গত দুই বছরে অনেক বেশি জটিল ও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার দাবি এই সম্পর্কের ওপর নতুন একটি চাপ তৈরি করেছে।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকেই বিভিন্ন অডিও বার্তার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে আসছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমের উদ্দেশে দেওয়া এসব বক্তব্যে তিনি দেশে ফিরে আসার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানেন যে দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন শেখ হাসিনা। মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা হিসেবে লন্ডন ও জেনেভায় আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি অডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন।
দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার দেওয়া একটি অডিও বক্তব্য প্রচারিত হওয়ার পর বাংলাদেশের সরকার এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে দেশের গণমাধ্যমে এ বক্তব্য প্রচারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। অন্যদিকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ঢাকা তাতে সাড়া দেয়নি।
শেখ হাসিনার পর বদলে গেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। ওই সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি ছিল শেখ হাসিনাবিরোধী জনমত। শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করায় এর সঙ্গে ভারতবিরোধী মনোভাবও যুক্ত হয়।
পরবর্তী নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ভারত সম্পর্কে অতীতে জটিল ও সমস্যাপূর্ণ সম্পর্ক থাকা একটি রাজনৈতিক শক্তি এখন ক্ষমতায় রয়েছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার পতনে ভূমিকা রাখা জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শক্তিও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের একটি অংশ ভারতকে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ভারত এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। কিন্তু ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান সেই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নভেম্বর মাসের ভারত সফর নিয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা হওয়া এবং চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা অবশ্য এক বিষয় নয়। ফলে সফরটি সম্ভাব্য হলেও এখনো নিশ্চিত নয়।
তারেকের সফর ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একই সূত্রে গাঁথা
দুই দেশের সম্পর্ক সম্পর্কে অবগত নন এমন কারও কাছে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং তারেক রহমানের ভারত সফর দুটি আলাদা বিষয় মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দুটি বিষয় ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
ঢাকার বর্তমান সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়। বাংলাদেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে এবং গুরুতর অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত থেকে তাকে ফেরানোর বিষয়টি এখন শুধু রাজনৈতিক দাবি নয়, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
ভারতও চাইলেই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে পারে না। প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত ও আইনি বিষয় বিবেচনা করতে হবে।
অন্যদিকে তারেক রহমান ভারত সফর করলে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টি তার জন্যও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির চাপের মধ্যে তাকে ভারতে গিয়ে শেখ হাসিনার উপস্থিতি নিয়ে অবস্থান নিতে হতে পারে।
ঢাকার অভিযোগ এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবি তাই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের রাজনৈতিক চাপ হিসেবেও কাজ করছে।
দিল্লির সামনে বড় কৌশলগত প্রশ্ন
ভারতের জন্যও বিষয়টি শুধু শেখ হাসিনাকে নিয়ে নয়। দিল্লির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ হলো বাংলাদেশের যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তার সঙ্গে কার্যকর ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা।
ভারতের কাছে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিবেশী দেশ। তাই সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন আটকে থাকুক, দিল্লি সেটি চাইবে না।
শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর ভারতকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
এর অর্থ হলো তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা, পানি বণ্টন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করা।
ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া, কিন্তু একই সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টিও পুরোপুরি উপেক্ষা না করা।
শেখ হাসিনা ফিরলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তার নিরাপত্তা
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ হলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসবে। দেশে ফেরার পর তার নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
বাংলাদেশ সরকার যদি তাকে গ্রেপ্তার করে বিচার পরিচালনা করে, তাহলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের। সরকার শেখ হাসিনাকে গুরুতর রাজনৈতিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী মনে করতে পারে এবং আদালতের মাধ্যমে তার দায় প্রমাণের চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তার ভাগ্য কোনো ঘাতক, উচ্ছৃঙ্খল জনতা বা উগ্রবাদী সংগঠনের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।
অতীতে শেখ হাসিনার ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিজেও তিনি বিভিন্ন সময়ে দেশে ফিরলে নিজের জীবন নিয়ে ঝুঁকি থাকার কথা বলেছেন। এর বিপরীতে বাংলাদেশের সরকার জানিয়েছে, দেশে ফিরলে তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে।
২০০৭ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডও এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও একজন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ওপর উগ্রবাদী হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়ে যায় না।
তবে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে বেনজির ভুট্টোর পরিণতি ঘটবে এমন কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত নেই। একইভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো হত্যার ষড়যন্ত্র রয়েছে, এমন প্রমাণও সামনে আসেনি। কিন্তু বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহিংসতা এবং উগ্রবাদের ইতিহাসের কারণে তার নিরাপত্তার বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
শেখ হাসিনা নিহত হলে রাজনৈতিক অভিঘাত হতে পারে ব্যাপক
শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হলে পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকবে। বিচার শান্তিপূর্ণভাবে এবং প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে পরিচালিত হলে সরকার বলতে পারবে, রাজনৈতিক প্রতিশোধের বদলে বিচারিক পথেই বিষয়টির সমাধান করা হচ্ছে।
অন্যদিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হলে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কারাবাস যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।
আর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার পরও যদি কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হাতে শেখ হাসিনা নিহত হন, তাহলে এর রাজনৈতিক অভিঘাত হতে পারে অত্যন্ত বড়। এমনকি সরকার ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত না থাকলেও এর দায় ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সরকার সহজে মুক্তি পাবে না।
শেখ হাসিনা তখন রাজনৈতিক ‘শহীদ’ হিসেবে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ তার মৃত্যুকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করতে পারে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এতে বাংলাদেশের ইতোমধ্যেই মেরুকৃত রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
ভারতকে শেখ হাসিনার বাইরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভাবতে হবে
ভারতের জন্যও শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে পুরো বাংলাদেশ নীতি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। দীর্ঘ সময় শেখ হাসিনা দিল্লির জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিলেন। তার সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ছিল।
কিন্তু সরকার পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক বাস্তবতা। ফলে ভারতকে এখন সেই বাংলাদেশের সঙ্গেই সম্পর্ক গড়তে হবে, যে বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যমান, শুধু যে বাংলাদেশকে দিল্লি দেখতে চায় সেই বাংলাদেশের সঙ্গে নয়।
এর অর্থ এই নয় যে ভারতকে শেখ হাসিনার বিষয়টি ভুলে যেতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বিচার ও জবাবদিহির দাবি পরিত্যাগ করার প্রয়োজন নেই।
বরং দুই দেশকে ধীরে ধীরে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আলাদা করে দেখার পথ খুঁজতে হবে। তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
তবে শেখ হাসিনাকে নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থান এতটাই স্পর্শকাতর যে কোনো পক্ষই এমন কোনো সমঝোতা করতে চাইবে না, যা নিজ নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখা হতে পারে।
এই কারণেই নভেম্বরে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা থাকলেও সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। আর সফর হলে তার আগে ও পরে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, নিরাপত্তা এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সূত্রঃ দ্য ইউরো এশিয়ান টাইমস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au