চার কারণে ধুঁকছে অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি নামবে ৩.৪ শতাংশে
সংস্কারের ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট ও দুর্বল রাজস্ব আহরণের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি আরও কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী,…
শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ কমানো, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার এবং শিক্ষক সংকট দূর করার দাবিতে ফ্রান্সে স্কুলশিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার দেশব্যাপী বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংগঠন। এরই মধ্যে আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় ও সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা বেড়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত সংঘর্ষে অন্তত ১৯০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আন্দোলন চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় শহর লঁসে একটি স্কুলের কাছে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর হাত গুরুতরভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার আঘাত জীবনসংহারী নয়।
এর আগে গত সপ্তাহে সাঁ-ওয়াঁ-লো-মোন এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এদেন নামের আরেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের একটি গ্রেনেড তার মাথায় আঘাত করে। তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এদেনের চোয়ালের দুটি হাড় ভেঙে যায় এবং তাকে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে।
ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ হাজার ৬০ জনের মধ্যে ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪ জনকে বিচার-পূর্ব আটক রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৮০২ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ৩১৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক।
সেপ্টেম্বরে রাজধানী প্যারিসে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলেও পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে যুক্ত হন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অতিরিক্ত, ভবনগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
রোববার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নো মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা খাতের কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে একগুচ্ছ পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি স্কুলগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে একই সঙ্গে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, আন্দোলনের নামে সহিংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তবে বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান আয়োজক ইউনিয়ন সঁদিকাল লিসেয়েনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়নি। সংগঠনটি মঙ্গলবারের দেশব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, আন্দোলনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।
শিক্ষকদের সংগঠন এসএনইএস-এফএসইউও মঙ্গলবারের বিক্ষোভে নিজেদের সদস্যদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া বামপন্থী রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এই আন্দোলনকে ১৯৬৮ সালের পর ফ্রান্সের উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে শক্তিশালী যুব আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন এলাকায় স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধের পাশাপাশি ময়লার বিনে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছে ইউনিয়ন সঁদিকাল লিসেয়েন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অত্যন্ত মাত্রাসম্মতভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের রাজনীতিতেও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকার ও ডানপন্থী রাজনীতিকেরা আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করার পেছনে কট্টর বামপন্থীদের ভূমিকার অভিযোগ তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নো লা ফ্রঁস ইনসুমিজের আন্দোলন আরও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন।
কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলের নেতা মেরিন ল্য পেনও বিক্ষোভের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এটি আর শুধু উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সংগঠিত সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এর বিপরীতে জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তরুণদের বিক্ষোভের পক্ষে জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বামপন্থী মার্সেই শহরের মেয়র বেনোয়া পায়াঁও বিক্ষোভে সহিংসতার নিন্দা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তরুণেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ ও সরকারি সেবা নিয়ে যথার্থভাবেই উদ্বিগ্ন। তবে নিজেদের দাবি শান্তিপূর্ণভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au