হানিট্র্যাপের সন্দেহে ভারতের ১৩ নৌসেনা সদস্য নজরদারিতে
পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট একটি সন্দেহভাজন গুপ্তচর চক্রের সন্ধান পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বড় ধরনের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ভারতীয় নৌবাহিনীর ১৩ সদস্যসহ মোট ১৮…
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখায় অডিট চলাকালে শাখা ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালামের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কীটনাশকযুক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের পর গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অডিট কমিটির তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। ঘটনার পর ব্যাংকের কর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় আব্দুস সালামকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুস সালাম গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায়।
সহকর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিমগাছী শাখায় কয়েক দিন ধরে অডিট কার্যক্রম চলছিল। অডিট চলার সময় আব্দুস সালামকে উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্ত দেখা যাচ্ছিল বলে সহকর্মীরা জানান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি দুটি গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিমগাছী শাখার কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, অডিট চলাকালে আব্দুস সালামকে বেশ হতাশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তাঁকে বাঁচতে দেওয়া হচ্ছে না এবং তিনি মারা যাবেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের কথা জানান। এরপর দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর ব্যাংকের কর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ও ব্যাংকের কর্মীরা অডিট কমিটির সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে অডিটের চাপের কারণে আব্দুস সালাম আত্মহত্যা করেছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের সদস্য এবং গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আহসানুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তদন্তের পরই আব্দুস সালামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে অডিট কার্যক্রমের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au