মাধবপুরের হীরালাল রায়ের ফিল্টার আজ বিলুপ্তির পথে
হবিগঞ্জের মাধবপুরের ঐতিহ্যবাহী পানির ফিল্টার একসময় দেশ-বিদেশে পরিচিতি পেয়েছিল। সিমেন্ট, পাথর, লাইমস্টোন পাউডার ও মোজাইকের বিশেষ মিশ্রণে হাতে তৈরি তিন স্তরের এসব ফিল্টার পানি বিশুদ্ধ…
নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মহাকাশ রকেট ‘নুরি’ সফলভাবে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবারের এই উৎক্ষেপণে রকেটটিতে বহন করা ১৫টি স্যাটেলাইটই সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর কারণে এটিকে দেশটির মহাকাশ কর্মসূচির অন্যতম জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার তিন ধাপের তরল জ্বালানিচালিত কোরিয়া স্পেস লঞ্চ ভেহিকল-২, সংক্ষেপে কেএসএলভি-২, স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হয়। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গোহেউংয়ে অবস্থিত নরো স্পেস সেন্টার থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। রাজধানী সিউল থেকে উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটির দূরত্ব প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
উৎক্ষেপণের পর রকেটটির প্রথম ধাপ, পেলোড ফেয়ারিং এবং দ্বিতীয় ধাপ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সফলভাবে বিচ্ছিন্ন হয়। প্রায় ১২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পর রকেটটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছালে নুরির তৃতীয় ধাপের ইঞ্জিন বন্ধ করা হয়। এরপর শুরু হয় একে একে স্যাটেলাইটগুলোকে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।
নুরির পঞ্চম উৎক্ষেপণ মিশনের প্রধান লক্ষ্য ছিল জাতীয় নিরাপত্তা ও পৃথিবী পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহারের জন্য ‘নিওনস্যাট’ স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডলের পাঁচটি ক্ষুদ্র স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে পাঁচটি স্যাটেলাইট একে একে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়।
এরপর আরও ১০টি ছোট আকারের একাডেমিক ও বাণিজ্যিক কিউবস্যাট বা ন্যানোস্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয়। এগুলো জোড়ায় জোড়ায় প্রায় ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। ফলে একটি মাত্র রকেটের মাধ্যমে মোট ১৫টি স্যাটেলাইট সফলভাবে মহাকাশে পাঠানোর সক্ষমতা দেখাল দক্ষিণ কোরিয়া।
এর আগে নুরির চতুর্থ উৎক্ষেপণ মিশনে একটি প্রধান পেলোড বহন করা হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার একই সঙ্গে ১৫টি স্যাটেলাইটকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করতে হয়েছে, যা মিশনটির প্রযুক্তিগত জটিলতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। প্রতিটি স্যাটেলাইটকে সঠিক সময় ও নির্ধারিত অবস্থানে স্থাপন করা ছিল পুরো অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মিশন শেষ হওয়ার পর নুরি সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়াতে কয়েকটি নির্ধারিত কৌশলগত গতিপথ পরিবর্তন করবে। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী রকেটটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করবে এবং বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে পুড়ে যাবে।
এই সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব রকেট প্রযুক্তি এবং একসঙ্গে একাধিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হলো। দেশটির মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্যিক মহাকাশ কার্যক্রমে এই মিশনকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au