গণপতি পরিবার হত্যাকাণ্ড: দেড় মাসেও কাটেনি ভয়, এলাকায় নেই পূজার আমেজ
রংপুর নগরীর হিন্দু অধ্যুষিত মাছুয়াপাড়া মহল্লায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও একমাত্র ছেলেকে হত্যার ঘটনায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়…
রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের হেনরি বি. কাগান ও জাপানের কেনসো সোয়াই। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত জৈব সংশ্লেষণে স্ব-অনুঘটন বা অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাদের নাম ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটি জানায়, কিছু অণু পরস্পরের আয়না-ছবির মতো দুটি ভিন্ন রূপে থাকতে পারে। রাসায়নিকভাবে একই অণুর এই দুই রূপকে মিরর ইমেজ বা আয়না-রূপ বলা হয়। মানবদেহে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্ষেত্রেও এমন দুটি রূপ রয়েছে। তবে জীবদেহে এসব অণুর মূলত একটি রূপই দেখা যায়।
জীবজগতে অণুর এই একমুখী গঠন কীভাবে তৈরি হলো, তা দীর্ঘদিন ধরে রসায়নবিদদের কাছে একটি রহস্য ছিল। সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একই অণুর দুটি আয়না-রূপ প্রায় সমান পরিমাণে তৈরি হওয়ার প্রবণতা থাকে। কিন্তু ওষুধসহ বিভিন্ন জৈব উপাদান তৈরিতে নির্দিষ্ট একটি রূপ প্রয়োজন হতে পারে।
কাগানের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি
এই রহস্য সমাধানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে হেনরি কাগানের গবেষণায়। ১৯৮৬ সালে তিনি রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এর মাধ্যমে দুটি আয়না-রূপের মধ্যে একটি রূপকে অন্যটির তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে তৈরি করা সম্ভব হয়। তবে শুধু একটি নির্দিষ্ট আয়না-রূপ তৈরি করার বিষয়টি তখনও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। কাগানের কাজ পরবর্তী গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
সোয়াইয়ের বড় সাফল্য
এরপর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াইয়ের গবেষণায়। ১৯৯৫ সালে তিনি এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশা উপস্থাপন করেন, যা একই ধরনের আয়না-রূপ তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করে। পরে ২০০৩ সালে তিনি এমন একটি রাসায়নিক ব্যবস্থা প্রদর্শন করেন, যেখানে সম্ভাব্য দুটি আয়না-রূপের মধ্যে একটি রূপই তৈরি হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
নোবেল কমিটির মতে, জীবনের রাসায়নিক প্রক্রিয়ার বাইরে এমন স্ব-অনুঘটনমূলক অসমমিতি তৈরির ঘটনা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
ওষুধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার
কাগান ও সোয়াইয়ের গবেষণার গুরুত্ব শুধু মৌলিক রসায়নে সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট গঠনের অণু তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই রাসায়নিক উপাদানের দুটি আয়না-রূপ মানবদেহে ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে। ফলে কাঙ্ক্ষিত আয়না-রূপ নির্ভুলভাবে তৈরি করার সক্ষমতা ওষুধশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নোবেল কমিটির মতে, দুই বিজ্ঞানীর গবেষণা এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরির পথ খুলে দিয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট গঠনের প্রয়োজনীয় অণু তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে ওষুধ ও অন্যান্য জটিল জৈব যৌগ তৈরিতে এ গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ রয়েছে।
হেনরি বি. কাগান ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদে কাজ করেছেন। আর কেনসো সোয়াই জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত। তাদের এই গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: নোবেল প্রাইজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au