তিন কাউন্সিলর নিয়েই ইংরেজবাজার পুরসভা বিজেপির দখলে
মালদহ জেলা পরিষদের পর এবার ইংরেজবাজার পুরসভাও দখলে নিল বিজেপি। বুধবার চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভোটাভুটিতে বিজেপি প্রার্থী অম্লান ভাদুড়িকে সমর্থন করেন তৃণমূল থেকে ‘নির্দল’ হওয়া ১১…
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদীতে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার আগে সাগরে থাকা মাছ ধরার ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুর মৎস্যবন্দরসংলগ্ন শিববাড়িয়া নদীতে একের পর এক ট্রলার নোঙর করতে দেখা গেছে। জেলেরা ট্রলার ও জাল গুছিয়ে ঘাটে অবস্থান নিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গত ৬ অক্টোবর থেকে কলাপাড়া, আলীপুর, মহিপুর, আশাখালী, দুলাসার, চাপলী ও কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত কয়েকদিন জেলেদের জালে তুলনামূলক ভালো পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। তবে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় সেই স্বস্তি আবার দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে। অনেক জেলে বলছেন, পুরো মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় তারা ঋণ ও বাজার খরচ তুলতে পারেননি।
আলীপুর মৎস্যবন্দর এলাকার জেলে সবুজ মাঝি বলেন, ‘ভরা মৌসুমেও তেমন ইলিশ পাইনি। বড়জোর চার-পাঁচ দিন ফিশিং করতে পেরেছি। তাতেও বাজার খরচ ওঠেনি। পাঁচ লাখ টাকার বাজার নিয়ে সাগরে গিয়েছিলাম, ফিরে এসে মাছ বিক্রি করেছি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মতো। আবার অবরোধ শুরু হয়েছে। কীভাবে দিন কাটবে, তা বুঝতে পারছি না।’
অপর জেলে শাহ-আলম বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে দেওয়া প্রণোদনা তাদের কষ্টের তুলনায় যথেষ্ট নয়। সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত জেলেরা যাতে সময়মতো সহায়তা পান, সেটি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
আলিপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘মা ইলিশের প্রজনন বাড়ানোর লক্ষ্যে শতভাগ নিষেধাজ্ঞা পালনে আমরা প্রস্তুত। ট্রলার ও জালসহ সবকিছু ধুয়ে-মুছে ঘাটে নোঙর করেছি।’
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি জানান, কলাপাড়া উপজেলার নিবন্ধিত ১৮ হাজার ৩৬৪ জন জেলের জন্য ৪৫৯ দশমিক ১০ টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। প্রত্যেক জেলে ২৫ কেজি করে চাল পাবেন। নদী ও সমুদ্র এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও নজরদারিও চালানো হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ শিকার, পরিবহন বা মজুত করলে প্রচলিত মৎস্য সংরক্ষণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার, আড়ত ও বরফকলেও নজরদারি জোরদার করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au