বাংলাদেশ

জ্বালানি সংকটে বন্ধ ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র, সর্বোচ্চ আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং

  • 1:02 pm - October 08, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৮১ বার
জ্বালানি সংকটে বন্ধ ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র, সর্বোচ্চ আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং।ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে ফের বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দিনে ও রাতে সর্বোচ্চ প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। একই সময়ে দেশের ৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা ইউনিট বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কেন্দ্রের একটি বড় অংশ বন্ধ থাকার প্রধান কারণ জ্বালানি সংকট। বিশেষ করে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলো সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ২৫ টাকা খরচ হচ্ছে। কয়লাচালিত কেন্দ্রে খরচ পড়ছে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ টাকা। আর গ্যাসচালিত কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে প্রায় ৭ টাকা। ফলে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম খরচে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হলেও দেশে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

ওই কর্মকর্তা জানান, দেশে প্রতিদিন দেশীয় উৎস থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি থেকে আরও প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু চাইলেও হঠাৎ করে কোনো উৎস থেকেই গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়। কারণ দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উল্লেখযোগ্য সরবরাহ যোগ হয়নি, পাশাপাশি গ্যাস আমদানির অবকাঠামোগত সক্ষমতাও সীমিত।

বন্ধ থাকা গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে ৭ অক্টোবর এসব কেন্দ্রের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৮৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের সরবরাহ বাড়ালে শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ৭ অক্টোবরের উৎপাদন পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে ছয়টি কেন্দ্র বা ইউনিট বন্ধ রয়েছে। ঘোড়াশালের চারটি ইউনিটই বন্ধ, যেগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ১৫৩ মেগাওয়াট। এ ছাড়া ভেড়ামারার ৪১০ মেগাওয়াট, বাঘাবাড়ীর ৭১ মেগাওয়াট এবং সিরাজগঞ্জের ২২৫ মেগাওয়াটের তিনটি ইউনিটও গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৩৯৫ মেগাওয়াট।

তরল জ্বালানি সংকটের কারণেও তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কোনো উৎপাদন হচ্ছে না। এগুলো হলো গোপালগঞ্জের ১০০ মেগাওয়াট, চৌমুহনীর ১১৩ মেগাওয়াট এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র। তিনটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৩১৩ মেগাওয়াট।

রক্ষণাবেক্ষণের কারণেও কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের ২১০ মেগাওয়াট, টঙ্গীর ৮০ মেগাওয়াট, আশুগঞ্জ ইস্টের ৪০০ মেগাওয়াট এবং বড়পুকুরিয়ার ২৫০ ও ২৭৪ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট রয়েছে। এসব কেন্দ্র বা ইউনিটের মোট সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৩৩৯ মেগাওয়াট।

এদিকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় হরিপুরের ৩৬০ মেগাওয়াট, মেঘনাঘাটের ৪৫০ মেগাওয়াট এবং ভেড়ামারার ২০ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকেও বিদ্যুৎ নিচ্ছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। তিনটি কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৮৩০ মেগাওয়াট। এর বাইরে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে শাহজীবাজারের ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন কেন্দ্রের উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে।

আরও কয়েকটি কেন্দ্র বিভিন্ন কারণে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে হরিপুরের ৩২ মেগাওয়াট, চট্টগ্রামের ৪২০ মেগাওয়াট, সিকলবাহা পিকিংয়ের ১৫০ মেগাওয়াট, সিলেটের ২০ মেগাওয়াট এবং সৈয়দপুরের ১৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি কয়লাচালিত বড়পুকুরিয়ার সব ইউনিটও বন্ধ রয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টায় দেশে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৪০ মেগাওয়াট। ৭ অক্টোবর সকাল ৮টায় তা কমে ৮৫৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে। তবে পরে আবার বাড়তে থাকে। বিকেল ৪টার দিকে লোডশেডিং দাঁড়ায় ১ হাজার ১৬১ মেগাওয়াটে।

বিদ্যুৎ খাতের এই পরিস্থিতি নিয়ে পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি. ডি. রহমত উল্লাহ বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্প্রসারণে দেশে সঠিক পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়নি। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরও জ্বালানির অভাবে অনেক কেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, দেশের নিজস্ব প্রাথমিক জ্বালানি সম্পদ সীমিত হওয়ায় ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। তাঁর মতে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে রাতে ব্যবহার করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর কর্মপন্থা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ঘাটতি তৈরি হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বাড়ছে।

এই শাখার আরও খবর

দিল্লিতে ভবন ধসে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৩

ভারতের রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমাপুরি এলাকায় একটি ভবন ধসে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা…

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ‘আইনি বিষয়’: রণধীর জয়সওয়াল

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি মূলত একটি…

ভিক্টোরিয়ায় হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের নতুন নেতৃত্ব

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করতে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম অস্ট্রেলিয়া। সংগঠনটির ভিক্টোরিয়া শাখার নতুন সভাপতি…

দিনাজপুরে ধানক্ষেতে হিন্দু কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ, পরিবারের অভিযোগ ‘হত্যা’

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে নিখোঁজের সাত দিন পর ধানক্ষেত থেকে প্রশান্ত রায় (১৭) নামে এক হিন্দু কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, প্রশান্তকে হত্যা করে…

গেরিলা কায়দায় যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে তুলে নিল পুলিশ

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর বাতিলের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন দ্বিতীয় দিনেও উত্তপ্ত হয়ে…

দেশজুড়ে অর্থনৈতিক ধস, দারিদ্র্যসীমার নিচে যাচ্ছে ছয় কোটি মানুষ

বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কায় দেশের প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আয় কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানের সংকট ও জ্বালানি…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au