জ্বালানি সংকটে বন্ধ ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র, সর্বোচ্চ আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে ফের বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দিনে ও রাতে সর্বোচ্চ প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। একই সময়ে দেশের ৩৫টি…
ভারতের রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমাপুরি এলাকায় একটি ভবন ধসে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের তাহিরপুরের রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভবন ধসের খবর পায় দিল্লি ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে দমকলের একাধিক গাড়ি পাঠানো হয়। এরপর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে গোলাফসা নামে ২১ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন। তিনি প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী ও একটি শিশু রয়েছে। তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
দিল্লি পুলিশের উপকমিশনার রাজেন্দ্র প্রসাদ মিনা জানিয়েছেন, নিহত শিশুদের মধ্যে একজনের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে জানান তিনি। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান এখনো চলছে।
ভবন ধসের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরাখণ্ডে অনুভূত ভূমিকম্পের কম্পনকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের কারণে ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল তৈরি হয়েছিল। পরে দুর্বল হয়ে পড়া ভবনটি ধসে পড়তে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে থাকা মানুষের চিৎকার ও সাহায্যের আবেদন শোনা যাচ্ছিল। এরপর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন এবং পরে দমকল ও উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।
দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। এ কারণে বাড়ির মালিক ভবনটি খালি করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছিলেন। তবে তার আগেই ভবনটি ধসে পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভবনটি প্রায় ২২৫ বর্গফুটের একটি জমির ওপর নির্মিত ছিল। ভবনটির কাঠামোগত অবস্থা, নির্মাণের অনুমোদন এবং ধসের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর দিল্লির সত্য নিকেত এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবন ধসে সাতজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার এক মাসের মধ্যেই রাজধানীতে ফের ভবন ধসের ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au