হুথিদের হামলায় সৌদির দুই বিমানবন্দরে নিহত ৩, আহত ৩৬
সৌদি আরবের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠী। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং…
বিদেশি অনুদান কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের দুই হাজারের বেশি ছোট ও মাঝারি আকারের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব এনজিও সম্পূর্ণভাবে বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বাজেট গড়ে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নেই, তারা অর্থসংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকায় বিআইডিএস সম্মেলনকক্ষে ‘বিয়ন্ড ফরেন ডিপেনডেন্স: দ্য ফিউচার অব এনজিও ফাইন্যান্সিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক কাজী ইকবাল।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এনজিও খাতে সরকারের পর্যাপ্ত কার্যক্রম ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নেই। এ কারণে এনজিও ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, যে প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা সবচেয়ে কম ব্যয়ে কার্যকরভাবে কোনো সেবা দিতে সক্ষম, তাদের সেই কাজের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামোর মধ্যেই অর্থায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
সরকার ইতোমধ্যে সৃজনশীল অর্থনীতির উদ্যোগের মাধ্যমে এ ধরনের অংশীদারত্ব শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে শীতলপাটি উৎপাদনকারীদের আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নকশাগত সহায়তার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া বিদেশি অনুদানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল এনজিওগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তীব্র অর্থসংকটের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী এনজিওগুলোর মধ্যে এ ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।
বিআইডিএসের গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, অর্থের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেক এনজিওকে তাদের সামাজিক সেবা কার্যক্রম কমিয়ে দিতে হতে পারে। একই সঙ্গে ঋণ বিতরণনির্ভর কার্যক্রম বাড়ানোর প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এতে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মাধ্যমে ছাড় হওয়া বিদেশি অনুদানের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা। তবে এই অর্থের বড় অংশ আগের অনুমোদনের ভিত্তিতে ছাড় হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ার পূর্ণ প্রভাব এতে প্রতিফলিত হয়নি।
এদিকে এনজিওগুলোর নতুন প্রকল্প অনুমোদনের সংখ্যাও কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে যেখানে ২ হাজার ৬১টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিল, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫৪টিতে। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে নতুন প্রকল্প অনুমোদন কমেছে ১৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
এনজিও খাতে অর্থায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর ব্যয়ও কমেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় ৬৯ শতাংশ কমে ৩৪৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
অর্থসংকট মোকাবিলায় গবেষণায় কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে যোগ্য এনজিওগুলোর জন্য একটি উন্মুক্ত নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু এবং সরকারি সেবা প্রদানের চুক্তিতে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে ছোট এনজিওগুলোর জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বিআইডিএস।
গবেষকদের মতে, বিদেশি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে এনজিওগুলোর বিকল্প অর্থায়নের পথ তৈরি করা না গেলে বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক সেবা কার্যক্রমের ওপর পড়তে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au