অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তাসনিম ঐশি। ২২ বছর বয়সী এই তরুণী পার্থের এডিথ কোওয়ান…
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা সভায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও হট্টগোলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু সম্মিলন সংঘ, যা আগে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট নামে পরিচিত ছিল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায় (ডা. এম কে রায়) স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার (৭ অক্টোবর) শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আসন্ন শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা সভার আয়োজন করা হয়। শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির দাবি, সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলাকালে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির পাল্টা প্রতিবাদ জানান। পরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হট্টগোল এবং অপ্রীতিকর হাতাহাতির ঘটনায় গড়ায় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দুর্গাপূজার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত সভার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ হিন্দু সম্মিলন সংঘ বলেছে, একটি সরকারি ও প্রশাসনিক সভায় রাজনৈতিক দলগুলোর এমন আচরণ শুধু সভার পরিবেশ নষ্ট করেনি, বরং সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও অপ্রয়োজনীয় ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
বিবৃতিতে সংগঠনটি আরও বলেছে, শারদীয় দুর্গাপূজার মতো একটি ধর্মীয় উৎসবের প্রস্তুতিমূলক সভা কোনো রাজনৈতিক দলের আধিপত্য বিস্তার, পারস্পরিক রাজনৈতিক বিরোধ, উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা দলীয় কোন্দল প্রদর্শনের জায়গা নয়। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এমন সংবেদনশীল আইনশৃঙ্খলা সভায় রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণ করা উচিত।
সংগঠনটির ভাষ্য, ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত সভায় রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের ঘটনা সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার শামিল। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু সম্মিলন সংঘ।
প্রথমত, ধর্মীয় উৎসবের প্রস্তুতিমূলক সরকারি সভায় উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক বিরোধ বা অস্থিরতার কোনো প্রভাব যাতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় না পড়ে, তা নিশ্চিত করার জন্য শ্রীনগর উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত সরকারি ও প্রশাসনিক সভায় দলীয় রাজনীতি, রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সব রাজনৈতিক দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে বাংলাদেশ হিন্দু সম্মিলন সংঘ।
বিবৃতিতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায় বলেন, ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করার সভাকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক বিরোধ প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করা উচিত নয়। এ ধরনের ঘটনায় যাতে পূজার পরিবেশ বিঘ্নিত না হয় এবং সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au