মৃত্যুর আগে তাজমিনের চলাচলের সিসিটিভি ফুটেজ, তদন্তে নতুন সূত্র
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন সূত্র পেয়েছে পুলিশ। মৃত্যুর আগের রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় তার…
কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সনের সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক পুরাণ ও সমকালীন জীবনের এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়। ধ্রুপদি সাহিত্যকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন এবং প্রচলিত সাহিত্যরীতির বাইরে গিয়ে সৃজনশীল কাজের জন্য তিনি পরিচিত। তাঁর একটি আলোচিত কাব্যনাট্যে পাশাপাশি উঠে এসেছেন হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো ও গ্রিক পুরাণের হেলেন অব ট্রয়। দুই ভিন্ন সময়ের এই দুই নারীকে এক সুতোয় গেঁথেছেন কার্সন।
মেরিলিন মনরোকে নিয়ে লেখা হয়েছে অসংখ্য বই, নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র, হয়েছে নানা গবেষণা। হলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম আলোচিত এই অভিনেত্রীর জীবন, সৌন্দর্য, প্রেম, একাকিত্ব ও রহস্যময় মৃত্যু আজও মানুষের আগ্রহের বিষয়। অন্যদিকে, প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে গ্রিক পুরাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে আছেন হেলেন অব ট্রয়। এই দুই নারীকে পাশাপাশি রেখে অ্যান কার্সন প্রশ্ন তুলেছেন সৌন্দর্য, আকর্ষণ এবং নারীর ব্যক্তিসত্তাকে অন্যের চোখে দেখার প্রবণতা নিয়ে।
কার্সনের এই কাজের নাম ‘নর্মা জিন বেকার অব ট্রয়’। নর্মা জিন বেকার ছিল মেরিলিন মনরোর জন্মনাম। ২০১৯ সালে মঞ্চস্থ হওয়া এই কাব্যনাট্যে একদিকে রয়েছেন বিংশ শতকের হলিউড তারকা মনরো, অন্যদিকে প্রাচীন গ্রিক পুরাণের হেলেন। তাঁদের সময়, জীবন ও পরিচয় আলাদা হলেও কার্সনের দৃষ্টিতে তাঁদের অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে গভীর সাদৃশ্য।
গ্রিক পুরাণে হেলেনকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করেই ট্রয়ের যুদ্ধের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। পুরাণের এই চরিত্রকে ঘিরে আকাঙ্ক্ষা, অধিকারবোধ ও সংঘাতের যে বয়ান তৈরি হয়েছে, সেখানে হেলেনের নিজস্ব ইচ্ছা ও ব্যক্তিসত্তা প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়।
অন্যদিকে, মেরিলিন মনরো ছিলেন হলিউডের অন্যতম আলোচিত ‘সেক্স সিম্বল’। তাঁর আবেদনময়ী পর্দা-উপস্থিতি তাঁকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়। কিন্তু তারকা পরিচয়ের আড়ালে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক টানাপোড়েন ও নিজস্ব পরিচয়ের প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে বারবার।
অ্যান কার্সন এই দুই চরিত্রকে পাশাপাশি রেখে দেখিয়েছেন, ভিন্ন যুগের হলেও তাঁদের ঘিরে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছু মিল রয়েছে। দুজনের ক্ষেত্রেই সৌন্দর্য ও আকর্ষণ তাঁদের পরিচয়ের প্রধান অংশ হয়ে উঠেছে। তাঁদের নিজেদের কণ্ঠস্বর, ইচ্ছা ও ব্যক্তিসত্তার চেয়ে অন্যদের কল্পনা এবং আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
‘নর্মা জিন বেকার অব ট্রয়’ সেই দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। সৌন্দর্যের কারণে একজন নারী কীভাবে অন্যের কল্পনার বিষয় হয়ে ওঠেন এবং সেই পরিচয় কীভাবে তাঁর নিজস্ব সত্তাকে আড়াল করে দেয়, নাটকটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান সেটিই।
অ্যান কার্সনের সাহিত্যজগৎ গভীরভাবে যুক্ত প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাহিত্য, পুরাণ এবং ইতিহাসের সঙ্গে। তবে তিনি ধ্রুপদি সাহিত্যকে কেবল অতীতের নিদর্শন হিসেবে দেখেন না। বরং পুরোনো কাহিনি ও চরিত্রের মধ্য দিয়ে সমকালীন সমাজ, মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং পরিচয়ের সংকটকে নতুনভাবে বোঝার চেষ্টা করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’, ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ এবং ‘মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স’। কবিতা, গদ্য, নাটক, অনুবাদ ও সাহিত্যসমালোচনার বিভিন্ন রীতি মিলিয়ে নিজস্ব লেখার ধরন গড়ে তুলেছেন তিনি।
মেরিলিন মনরোকে হেলেন অব ট্রয়ের পাশে বসানোও কার্সনের সেই সাহিত্যিক পদ্ধতির অংশ। একজন বাস্তব ঐতিহাসিক তারকা এবং অন্যজন পৌরাণিক চরিত্র। তাঁদের পাশাপাশি রেখে তিনি দেখিয়েছেন, সময় বদলালেও সৌন্দর্যকে ঘিরে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারীর ওপর আরোপিত পরিচয়ের কিছু প্রবণতা টিকে থাকতে পারে।
২০১৯ সালে নিউইয়র্কের দ্য শেডের গ্রিফিন থিয়েটারে ‘নর্মা জিন বেকার অব ট্রয়’ মঞ্চস্থ হয়। এতে অভিনয় করেন বেন উইশ ও সোপ্রানো রেনে ফ্লেমিং। নাটকটি পরিচালনা করেন কেটি মিচেল।
প্রাচীন পুরাণের হেলেন আর আধুনিক হলিউডের মেরিলিনকে এক মঞ্চে এনে অ্যান কার্সন কেবল দুই নারীর সৌন্দর্যের তুলনা করেননি। বরং তাঁদের ঘিরে তৈরি হওয়া সামাজিক কল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গির দিকে দর্শকের মনোযোগ ফিরিয়েছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর সাহিত্যকর্মকে ধ্রুপদি কাহিনির পুনর্কথনের গণ্ডি ছাড়িয়ে সমকালীন আলোচনার অংশ করে তোলে।
সূত্র: রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au