পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে এগিয়ে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকার। ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার দুটি আসনের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপির দুই প্রার্থী। নন্দীগ্রামে হাসি রানী রথ এবং রেজিনগরে শাখারভ সরকার এগিয়ে রয়েছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোট গণনায় তাদের বড় ব্যবধানের অগ্রগতি দেখা যায়। তবে নির্বাচন ঘিরে ভোট লুট ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুটি আসনেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম ভোটার রয়েছেন। রেজিনগরে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে প্রায় ৩০ শতাংশ। সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির এই অগ্রগতি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজেপির নেতারা দাবি করেছেন, উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন মানুষ এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশের সমর্থনও পেয়েছে দলটি। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হয়। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে জয়ী হয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। তিনিও অন্য আসন রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
নন্দীগ্রামে বিজেপির হাসি রানী রথের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মিলন প্রধান। গণনার বিভিন্ন পর্যায়ে হাসিরানি বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। এ আসনে কংগ্রেস দ্বিতীয়, বামপন্থীরা তৃতীয় এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট চতুর্থ স্থানে রয়েছে বলে গণনার প্রবণতায় দেখা গেছে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৩০১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের পবিত্র কর পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৩৬ ভোট। শুভেন্দু ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। উপনির্বাচনে বিজেপির বড় ব্যবধানের অগ্রগতি আগের ফলের সঙ্গে তুলনার সুযোগ তৈরি করেছে।
রেজিনগরে বিজেপির শাখারভ সরকারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আমজনতা উন্নয়ন পার্টির গোলাম নবী আজাদ, যিনি হুমায়ুন কবীরের ছেলে। গণনার বিভিন্ন পর্যায়ে শাখারভ বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আগের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে হুমায়ুন কবীর পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট। বিজেপির বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন ৬৪ হাজার ৬৬০ ভোট। অর্থাৎ হুমায়ুন কবীর ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এবার সেই আসনে বিজেপির অগ্রগতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটারদের বাধা দেওয়া ও অনিয়মের কারণে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সূত্র : আনন্দবাজার, বর্তমান