পার্থে বাড়ির পেছনের উঠানে যুবকের মরদেহ, হত্যার তদন্তে যমজ ভাই আটক
অস্ট্রেলিয়ার পার্থে শহরের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর ওরেলিয়ায় বাড়ির পেছনের উঠান থেকে ২৯ বছর বয়সী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর যমজ ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার…
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন। তবে সম্প্রচারটি কীভাবে এবং কোন মাধ্যমে করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে হেগসেথকে এ বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়। ‘হিউম্যান ইভেন্টস ডেইলি’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে বোঝাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি জনসমক্ষে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
হেগসেথের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর বেলা ১টায় ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। হামলাটি যেদিন, যে সময়ে ও যে স্থানে হয়েছিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থানও সেগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে ‘খুবই সহজ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হেগসেথ বলেন, ‘মানুষ যেন এটি দেখতে পারে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি জনসমক্ষে হয়, তা আমরা নিশ্চিত করব। কারণ, মানুষকে বুঝতে হবে, এ ধরনের কাজের জন্য গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’
এর আগে গত সোমবার পেন্টাগন জানায়, হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকরের বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সুপারিশে অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ ও স্থান নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর সচিবকে।
নিদাল মালিক হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গুলি চালান। এতে ১৩ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন কর্মরত সেনাসদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।
হামলার পর হাসান দাবি করেছিলেন, মুসলিম দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই তিনি এ হামলা চালিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে তাকে কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে বন্দি রাখা হয়েছে।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে বিরল ঘটনা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ১৯৬১ সালের পর এটি হবে দেশটির প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। পাশাপাশি, ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম ঘটনা হবে এটি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au