বাংলাদেশ

মশা নিয়ন্ত্রণে হাজার কোটি টাকা ব্যয়, তবুও কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ

  • 6:22 pm - October 10, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩৮ বার
মশা নিয়ন্ত্রণে হাজার কোটি টাকা ব্যয়, তবুও কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না। গত এক দশকে শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মশা নিধনে এক হাজার ৩৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও দুই সিটি করপোরেশনের সম্মিলিত বরাদ্দ ২৪২ কোটি টাকা। কিন্তু এত অর্থ ব্যয়ের পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশার বিস্তার ও ডেঙ্গু সংক্রমণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে।

 এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে কীটনাশক ছিটানো, ফগিং ও লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম চালানো হলেও প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত কার্যক্রম, অনিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ এবং মশার মধ্যে রাসায়নিক প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হওয়ায় প্রচলিত পদ্ধতিগুলো ক্রমেই অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

একসময় ঢাকায় মশা নিধনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে কীটনাশক ছিটানো হতো। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাবিবুল্লাহ বাহার চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত সেই অভিযানে দীর্ঘদিন মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ছয় দশকের বেশি সময় পরও মশার বিরুদ্ধে সেই লড়াই শেষ হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গত মে মাসে পরিচালিত বর্ষাপূর্ব জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, সংস্থাটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব গ্রহণযোগ্য মাত্রার ওপরে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু সংক্রমণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রামেও মশার উপদ্রব নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত মশা নিধনের কার্যক্রম চোখে পড়ে না। অনেক এলাকায় ফগিং মেশিনের কর্মীদেরও খুব কম দেখা যায়।

ডেঙ্গুর প্রকোপ। ছবি : সংগৃহীত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিধনে ব্যবহৃত অধিকাংশ প্রচলিত জনস্বাস্থ্য কীটনাশকের বিরুদ্ধে দেশের এডিস মশার প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলে একই ধরনের রাসায়নিক বারবার ব্যবহার করেও কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক রোগ নয়। দেশের বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় এটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ২৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের সপ্তাহে সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার ৯০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসাকর্মীর বড় অংশ এখনো ঢাকাকেন্দ্রিক। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের, বিশেষ করে শিশুদের, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

ডেঙ্গুর চিকিৎসা ব্যয়ও সাধারণ মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালে দীর্ঘদিন ভর্তি থাকা, বারবার রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে।

ঢাকার একটি চায়ের দোকানের মালিক মোহাম্মদ লিটনের তিন বছর বয়সী মেয়ে লিসা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা বেসরকারি ক্লিনিকে করাতে গিয়ে তাঁকে তিন হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

লিটন জানান, মেয়ের চিকিৎসা ও নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়ের দেখাশোনা করতে গিয়ে তাঁর ছোট দোকানটিও বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি আয় বন্ধ হওয়ার সমস্যায় পড়েছেন তিনি।

অন্যদিকে ১৩ বছর বয়সী আরহান সাফওয়াতের চিকিৎসায় আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে তাঁর পরিবারকে। শিশুটির মা সালমা আফরোজ জানান, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সুবিধাসহ একটি বেসরকারি হাসপাতালে মাত্র চার দিন চিকিৎসা করাতেই তাঁদের প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

ফেনীর বাসিন্দা ফারুক আহমেদের সাড়ে চার বছর বয়সী সন্তান ডেঙ্গু পরীক্ষায় নেগেটিভ হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার সকালে সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ জানান, ২০২৩ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় পরিবারের সাত হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। বেসরকারি হাসপাতালে এই ব্যয় বেড়ে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

চিকিৎসার ব্যয় কমাতে তিনি একটি জাতীয় স্বাস্থ্য তহবিল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই তহবিলের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে।

এদিকে মশা নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও প্রতিবছর বিপুল অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। মশার কয়েল, অ্যারোসল, বৈদ্যুতিক ব্যাট, মশারি ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক সামগ্রী কিনতে পরিবারের নিয়মিত ব্যয় বাড়ছে।

২০২০ সালের একটি হিসাব অনুযায়ী, সরকারি উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত খরচ মিলিয়ে বাংলাদেশে মশা নিয়ন্ত্রণে বছরে অন্তত পাঁচ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

একই বছরের শিল্প খাতের হিসাব অনুযায়ী, দেশে মশার কয়েলের বার্ষিক বাজার ছিল প্রায় এক হাজার ৪৮০ কোটি টাকার। অ্যারোসলের বাজার প্রায় ২০০ কোটি টাকা, বৈদ্যুতিক ভ্যাপোরাইজারের বাজার ১৪ কোটি টাকা এবং মশা মারার বৈদ্যুতিক ব্যাটের বাজার প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

তবে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত নামহীন বা স্থানীয়ভাবে তৈরি মশার কয়েলের বাজার এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বাড়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে মশা প্রতিরোধী পণ্যের বাজার প্রতিবছর প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিল কীটনাশকের বড় ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় রোগবাহক পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের বাজেটের প্রায় ৭২ থেকে ৯৪ শতাংশ রাসায়নিক ও কীটনাশকের পেছনে ব্যয় করা হয়।

তবে গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মশার প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে এসব রাসায়নিক পরিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্য এবং মৌমাছির মতো উপকারী প্রাণীর জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক প্রযুক্তি।

বিশ্ব মশা কর্মসূচির আওতায় এক ডজনের বেশি দেশে ওলবাকিয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া বহনকারী এডিস মশা পরিবেশে ছাড়া হয়। ব্যাকটেরিয়াটি মশার শরীরে ডেঙ্গুর ভাইরাসের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত করে। ফলে মশার মাধ্যমে মানুষের শরীরে ভাইরাস ছড়ানোর সক্ষমতা কমে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওলবাকিয়া পদ্ধতির জনস্বাস্থ্যগত গুরুত্ব স্বীকার করেছে।

ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কলম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় ওলবাকিয়া প্রযুক্তির মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণ ৭৫ শতাংশের বেশি কমানোর ফল পাওয়া গেছে।

সিঙ্গাপুরে পরীক্ষাগারে প্রস্তুত ওলবাকিয়া বহনকারী পুরুষ মশা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট এলাকায় মশার সংখ্যা সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সাফল্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য সব মশা নির্মূল করা নয়, বরং মশার মাধ্যমে রোগ ছড়ানোর সক্ষমতা কমিয়ে আনা।

এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকা ব্যবহারের বিষয়টিও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উচ্চমাত্রায় ডেঙ্গু সংক্রমণপ্রবণ এলাকায় ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য কিউডেঙ্গা টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করে।

জাপানের তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি এই টিকা তিন মাসের ব্যবধানে দুই ডোজে দেওয়া হয়। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ ৪০টির বেশি দেশে টিকাটি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গত ২০ জুলাই ভারত তাদের প্রথম ডেঙ্গু টিকা হিসেবে কিউডেঙ্গার অনুমোদন দিয়েছে। দেশটিতে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে টিকাটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই ডোজের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ছয় হাজার থেকে ১২ হাজার ভারতীয় রুপি।

তবে বাংলাদেশে এখনো ডেঙ্গুর টিকা চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু নতুন প্রযুক্তি কিংবা টিকা ব্যবহার করলেই মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

চিকিৎসা কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, কীটনাশক, ওলবাকিয়া প্রযুক্তি এবং টিকাকে একে অপরের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পদ্ধতি সমন্বিতভাবে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি ভারতের কলকাতার অভিজ্ঞতার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে নিয়মিত মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, লার্ভা নিধন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া গেছে। এ জন্য ওলবাকিয়ার মতো নতুন প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশেও মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত জরিপ, প্রজননস্থল ধ্বংস, উপযুক্ত কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার, জৈবিক নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

অতীতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের বিদেশে পাঠিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে ঢাকার কর্মকর্তারা ফগিং মেশিনের সঠিক ব্যবহার শিখতে জার্মানি ও ফ্রান্স সফর করেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও মশা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ও জৈবিক লার্ভানাশক উৎপাদন সম্পর্কে জানতে যুক্তরাষ্ট্রে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই প্রস্তাব অনুমোদন না দেওয়ায় সফরটি বাতিল হয়।

এত উদ্যোগ ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও মশার উপদ্রব এবং ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রচলিত কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিধনে কত টাকা ব্যয় হলো কিংবা কত পরিমাণ কীটনাশক ছিটানো হলো, তা দিয়ে সাফল্য নির্ধারণ করা উচিত নয়। বরং মশার প্রজনন কতটা কমেছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কতটা হ্রাস পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কতটা কমেছে, সেসব সূচককে গুরুত্ব দিতে হবে।

তাঁদের মতে, সমন্বিত ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করেও ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা কঠিন হবে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

এই শাখার আরও খবর

জাতীয় দলের বিতর্ক পেছনে ফেলে ৯৮০তম গোল রোনালদোর

জাতীয় দলের কোচের সঙ্গে বিরোধ এবং ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার বিতর্ক পেছনে ফেলে আবারও গোলের আলো ছড়ালেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সৌদি প্রো লিগে আল-দিরিয়াহর বিপক্ষে…

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের মৃত্যু

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস…

দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ একাধিক নেতা আটক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার…

দিল্লিতে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে আটক ৪০০, বাতিল শত শত ট্রেন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিশাল বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) যন্তর…

মহালয়ার আগমনী সুর থেকে দুর্গোৎসবের মহামিলন: বাঙালির প্রাণের উৎসব

শরৎ এলেই বাংলার প্রকৃতি যেন নতুন করে সেজে ওঠে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নদীর চরে কাশফুলের দোলা, ভোরের শিশিরভেজা শিউলি আর বাতাসে উৎসবের মৃদু…

দেশে নিরাপত্তা সংকটে পুলিশ, রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। খুলনায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে জেলা পুলিশের এক পরিদর্শক গুরুতর আহত হওয়ার পর…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au