দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় শুরু দেবীপক্ষ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার শুভ সূচনা হয়েছে আজ। শনিবার (১০ অক্টোবর) পবিত্র মহালয়ার মধ্য দিয়ে অবসান ঘটেছে পিতৃপক্ষের, শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের বার্তা নিয়ে এসেছে এই পুণ্যতিথি। মহালয়াকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ পূজা, চণ্ডীপাঠ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়া হলো দেবী দুর্গার আবাহনের পবিত্র মুহূর্ত। এদিন শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানানো হয়। চণ্ডীতে বর্ণিত রয়েছে দেবী দুর্গার সৃষ্টি, তাঁর অসীম শক্তি এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের কাহিনি। তাই মহালয়া শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং অশুভের বিনাশ ও শুভ শক্তির জাগরণের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
মহালয়া উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ ও দেবী দুর্গার আবাহনের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তিল-তর্পণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজার আয়োজন করা হবে।
সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, মহালয়ার দিনে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের উদ্দেশে জল ও তিল নিবেদন করা হয়। এই আচার তিল-তর্পণ নামে পরিচিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এর মাধ্যমে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
মহালয়ার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ। দেবী দুর্গার মহিমা, শক্তি ও অসুরবধের কাহিনি পাঠের মাধ্যমে ভক্তরা দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে পৃথিবীতে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই দেবীর আগমনকে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
মহালয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে মর্ত্যে আগমন করেন। মহালয়ায় ঘট স্থাপনের মাধ্যমে দেবীর আগমনের প্রতীকী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বেলতলায় দেবীর অবস্থান ও পরবর্তী পূজার আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহালয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এদিন ভক্তরা দেবী দুর্গার কাছে পরিবার, সমাজ ও দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করেন। একই সঙ্গে সব ধরনের অশুভ শক্তির বিনাশ এবং মানবকল্যাণের প্রার্থনা জানান।
মহালয়ার আগমনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসবের আবহ। মন্দিরে মন্দিরে চণ্ডীপাঠ, পূজার্চনা ও ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।