সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে ছুরিকাঘাতে ৩০ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত তিন হামলাকারীসহ ঘটনার সময় ওই এলাকায় থাকা আরও অন্তত এক ডজন…
দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০ ছুঁইছুঁই। চলতি বছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এ রোগে মারা গেছেন ২৯৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে চারজনের। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৬৩১ জন।
সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর অক্টোবরের প্রথম ৯ দিনেও মারা গেছেন ৫৪ জন। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তুতি, চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৭ হাজার ৮২ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯১ হাজার ৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫ হাজার ৭৭৪ জন।
রোগীর এই চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মে মাসে একজন, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম ৯ দিনে মারা গেছেন ৫৪ জন। অর্থাৎ আগস্টের পর মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বক্তব্য
ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজশাহীতে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজনে একটি কর্মশালায় অংশ নেওয়ার পর তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি বিভাগের সমন্বয়ে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চার মাস আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা বিবেচনায় রেখেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে আগাম প্রস্তুতির কথা বলার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কতটি এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়েছে এবং এসব কার্যক্রমের ফলে সংক্রমণ কতটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। মৃত্যুর সংখ্যা ও হাসপাতালে রোগী ভর্তির ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় প্রস্তুতির বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
ঢাকার বাইরে বাড়ছে রোগীর চাপ
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭০৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রামে ২৩৪, বরিশালে ২১৯, খুলনায় ১৮৪, রাজশাহীতে ১৪১, রংপুরে ৭৫, ময়মনসিংহে ৬১ এবং সিলেটে ১৪ জন ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক এই পরিসংখ্যান বলছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
একই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৯২ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৪০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২০৫ জন। ফলে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপের পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মৃত্যুর ঘটনা চলতি বছরের তুলনায় বেশি ছিল। তবে চলতি বছরের মৃত্যুর সংখ্যা ২৯৯-এ পৌঁছানোয় রোগী শনাক্ত, চিকিৎসা এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা জরুরি। শুধু আগাম তথ্য সংগ্রহ নয়, সেই তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপের ফলাফলও মূল্যায়ন করতে হবে।’
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au