বাংলাদেশ

‘নিকাব খুলতে বলিনি’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান জানালেন শিক্ষক

  • 5:37 am - October 11, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৪ বার
ঢাবির সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব। ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরা নিয়ে কথা বলার ঘটনায় বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব। তাঁর দাবি, নিকাব খুলতে, পোশাক পরিবর্তন করতে কিংবা শ্রেণিকক্ষ থেকে চলে যেতে তিনি ওই ছাত্রীকে নির্দেশ দেননি। শিক্ষার্থীর চোখ দেখতে না পাওয়ায় তাঁকে শনাক্ত করা এবং কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে অসুবিধা হচ্ছিল বলে নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

গত ৭ অক্টোবর ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স ফাইনাল সেমিস্টারের একটি ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানানোর পর ৮ অক্টোবর তাসনীম সিরাজ মাহবুবকে তাঁর সব কোর্সের পাঠদান থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ। তাঁর পড়ানো কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর কয়েক দিন নীরব থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় পুরো ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দেন তাসনীম সিরাজ মাহবুব। এতে তিনি শ্রেণিকক্ষে কী ঘটেছিল, শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁর কী কথা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে দুঃখ প্রকাশের চেষ্টা এবং বিভাগীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

‘চোখ দেখতে না পাওয়ায় অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলাম’

ভিডিও বার্তায় তাসনীম সিরাজ মাহবুব বলেন, ঘটনার দিন শ্রেণিকক্ষে আরও দুজন ছাত্রীর সঙ্গে একজন শিক্ষার্থী বসেছিলেন, যাঁর চোখসহ পুরো মুখমণ্ডল ঢাকা ছিল। ওই শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করতে এবং চোখে চোখ রেখে যোগাযোগ করতে অসুবিধা হচ্ছিল তাঁর। এ কারণে পাঠদানের সময় অস্বস্তি অনুভব করছিলেন বলে জানান তিনি।

তাসনীম সিরাজের ভাষ্য, শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা এবং স্বস্তিদায়ক পরিবেশে পাঠদান করা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই তিনি ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তবে তাঁকে নিকাব খুলতে, পোশাক পরিবর্তন করতে কিংবা ক্লাস ছেড়ে যেতে বলেননি বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর দাবি, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক হয়নি। চোখ দেখতে না পাওয়ায় অস্বস্তি হচ্ছে, শুধু সেটিই জানিয়েছিলেন তিনি। এরপর ওই শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষ থেকে চলে যান।

তবে নিকাব পরা শিক্ষার্থীর পক্ষে কথা বলা আরেকজন ছাত্রীর সঙ্গে পোশাকের স্বাধীনতা, পরিচয় শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কার্যকর যোগাযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয় বলে জানান তাসনীম সিরাজ।

তিনি বলেন, ওই আলোচনায় পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূরের ৩১ নম্বর আয়াতে শালীনতা ও সৌন্দর্য প্রদর্শন সীমিত রাখার নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছিলেন। শ্রেণিকক্ষে বোরকা পরা অন্য দুই ছাত্রীর উদাহরণ দিয়ে নিজের বোঝাপড়া অনুযায়ী মুখমণ্ডল দৃশ্যমান রেখেও শালীন পোশাকে পর্দা করা যায় বলে মত দিয়েছিলেন।

এ ছাড়া নিজের হজ পালনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ইহরাম অবস্থায় নারীদের নিকাব পরা নিয়ে হাদিসের প্রসঙ্গও আলোচনায় এনেছিলেন বলে ভিডিও বার্তায় জানান তিনি।

‘ধর্মীয় বিশ্বাস বা পোশাককে অবমাননার প্রশ্নই আসে না’

নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে তাসনীম সিরাজ মাহবুব বলেন, তিনি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন পালন করেন। প্রায় ৩৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও আচরণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা অবগত বলেও দাবি করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা পোশাককে অবমাননা করার প্রশ্নই আসে না।

শ্রেণিকক্ষে সেদিন হিজাব ও বোরকা পরা আরও অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে তাসনীম সিরাজ বলেন, তাঁদের কারও মুখমণ্ডল ঢাকা থাকলেও চোখ দৃশ্যমান ছিল। ফলে তাঁদের শনাক্ত করতে অসুবিধা হয়নি। ওই শিক্ষার্থীদের কাউকেই পোশাক নিয়ে কোনো কথা বলেননি তিনি।

তাসনীম সিরাজের দাবি, সংশ্লিষ্ট ছাত্রীকে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করা, নিকাব খুলতে বলা, শ্রেণিকক্ষ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া কিংবা ধর্মীয় পোশাক পরার কারণে শাস্তি দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমনকি ভবিষ্যতে তাঁর ক্লাসে আসতেও ওই ছাত্রীকে নিষেধ করেননি বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন বলে দাবি

ভিডিও বার্তায় তাসনীম সিরাজ মাহবুব দাবি করেন, ওই শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষ থেকে চলে যাওয়ার পর অন্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ছাত্রীটি কষ্ট পেয়ে ক্লাস ছেড়েছেন। কাউকে কষ্ট দেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না জানিয়ে ওই শিক্ষার্থীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে চান বলে অন্যদের জানিয়েছিলেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সহপাঠীদের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীকে খোঁজ করেন এবং তিনবার তাঁর কাছে খবর পাঠান। এ ছাড়া করিডরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী বেরিয়ে না আসায় সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

তাসনীম সিরাজ আরও জানান, পরিবারের একজন গুরুতর অসুস্থ সদস্যের অস্ত্রোপচারের কারণে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হয়েছিল।

তবে এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া এই বিবরণে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার দিন কী বলেছিলেন শিক্ষার্থীরা

ঘটনার পর ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স ফাইনাল সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার নিজের ফেসবুক পোস্টে শ্রেণিকক্ষে ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিন্ন বিবরণ তুলে ধরেন।

সুমি আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসের শুরুতে তাসনীম সিরাজ মাহবুব শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। এরপর নিকাব পরা এক শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এভাবে পর্দা করার প্রয়োজন নেই, মুখ খোলা রাখা যায় এবং হাত-পা ঢাকারও প্রয়োজন নেই।

সুমি তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, ওই শিক্ষার্থীর নিকাবের কারণে শিক্ষক নিজেকে ‘আনকম্ফোর্টেবল’, ‘আনসেইফ’ ও ‘ডিস্ট্র্যাক্টেড’ বোধ করছেন বলে জানান এবং তাঁকে পেছনে গিয়ে বসতে বলেন।

সুমি আক্তার লেখেন, এ ঘটনায় তিনি প্রতিবাদ করেন। ওই শিক্ষার্থীর পোশাক তাঁর মাজহাব ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় এবং তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে সেভাবেই পর্দা করতে পারেন বলে মত দেন। এরপর এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে শিক্ষকের তর্ক হয়। একপর্যায়ে নিকাব পরা শিক্ষার্থীটি শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যান। তাঁর সঙ্গে আরও দুজন ছাত্রীও ক্লাস ছেড়ে যান বলে সুমি দাবি করেন।

এভাবে একই ঘটনার বিষয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে নিকাব ও ধর্মীয় পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল। অন্যদিকে তাসনীম সিরাজ মাহবুবের দাবি, তিনি নিকাব খুলতে বা পোশাক পরিবর্তন করতে বলেননি; বরং চোখ দেখতে না পাওয়ায় যোগাযোগের অসুবিধা ও নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন।

প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি, মানববন্ধন

ঘটনার প্রতিবাদে ৮ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন একদল নারী শিক্ষার্থী।

ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডাকসুর কমনরুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমার নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগে তাঁরা পাঁচ দফা দাবি জানান। এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আরেক দল শিক্ষার্থী একই দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দেয়।

একই দিন বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা। তাসনীম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও লিখিত অভিযোগের পর ৮ অক্টোবরই তাসনীম সিরাজ মাহবুবকে তাঁর কোর্সগুলোর পাঠদান থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ইংরেজি বিভাগ। তাঁর কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে।

ভিডিও বার্তায় তাসনীম সিরাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বক্তব্য না শুনেই বিভাগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হোক এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানালেন শিক্ষক

ভিডিও বার্তায় তাসনীম সিরাজ মাহবুব অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে তিনি বেনামি ফোনকল, ই-মেইল, আপত্তিকর বার্তা ও হুমকি পাচ্ছেন। এসব কারণে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে একপক্ষের অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। শ্রেণিকক্ষে ঠিক কী বলা হয়েছিল, কোন পরিস্থিতিতে কথোপকথন হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে কী ঘটেছে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।

‘রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ও অপতথ্যের শিকার’, বলছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক

এদিকে শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করেছে, তাসনীম সিরাজ মাহবুব রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা, অপতথ্য ও বিদ্যায়তনিক পরাধীনতার শিকার হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রেণিকক্ষের ঘটনাটিকে সেখানেই সীমাবদ্ধ না রেখে ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে জনপরিসরে উপস্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবিও তোলা হয়েছে বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি ঘটনাটিকে স্বার্থান্বেষী মহলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বক্তব্য, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন একাডেমিক বিষয়ে আলোচনা, মতবিনিময়, বাদানুবাদ কিংবা তর্ক-বিতর্ক হতে পারে। এ ধরনের আলোচনায় কোনো বক্তব্য থেকে ভুল-বোঝাবুঝিরও সৃষ্টি হতে পারে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই এসব পরিস্থিতির সমাধান করা সম্ভব।

কিন্তু এই ঘটনায় সেই প্রচলিত পদ্ধতি ও বিধিবিধানের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, শ্রেণিকক্ষের কথোপকথন যেভাবে সারা দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে তাসনীম সিরাজ মাহবুবকে ক্লাস থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সংগঠনটি দাবি করেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত বেআইনি।

এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া শিক্ষকের বক্তব্য ধারণ করে তা অনলাইনে খণ্ডিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

এই শাখার আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হামলায় শিশুসহ নিহত ৯

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে বন্দুকধারীর হামলায় শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) একটি বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর পর ভেতরে ঢুকে হামলা…

সংসদ সদস্যদের নিয়ে তারেক রহমানের জরুরি বৈঠক, কী নিয়ে আলোচনা?

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের তারিখ নির্ধারণ না হলেও হঠাৎ বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় সংসদ…

সরকার ও সেনাপ্রধানের দূরত্ব কমাতে সাবেক সেনাপ্রধানের দ্বারস্থ রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরির খবরের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) নুরউদ্দিন খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন…

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে পার্থক্য গড়ে দেবেন স্পিনাররা, আশাবাদী মুশতাক

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টের পরের দিনগুলোতে স্পিনাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেট থেকে…

জয়নগরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাতের অভিযোগ, আক্রান্ত বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাসের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর গাড়ি…

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au