এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবি, প্রয়োজনে হরতালে যাওয়ার ঘোষণা জোটের
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। একই সঙ্গে সোমবার (১২ অক্টোবর) বন্দর…
দিনভর আটক ও বিক্ষোভের পর অধিকাংশ নেতাকর্মীকে মুক্তি দেওয়া হলেও সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, দলের নেতা আশুতোশ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এখনো আটক রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে সমবেত হতে বাধা দেওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক সড়কে চলাচল সীমিত করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের অভিযানে আটক হন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। এ ছাড়া বৃন্দা কারাত, যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষণ ও ডি রাজার মতো রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীদেরও আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের রাজধানীর বিভিন্ন স্টেডিয়ামে নিয়ে রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নারী ও প্রবীণ বিক্ষোভকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মুক্তি দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে অন্য আটক ব্যক্তিরাও ছাড়া পান।
এদিকে দিল্লির বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। চেন্নাই থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সব নেতা ও তরুণকে আটক করা হলেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবি থেকে সরে আসবেন না।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই নেতা আশুতোশ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রাম থেকে আটক করা হয়।
এর মধ্যে অভিজিৎ দীপকের পরিবারের একটি শোকাবহ ঘটনাও সামনে এসেছে। মহারাষ্ট্রে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হলেও শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
বিক্ষোভ চলাকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। তিনি পুলিশের পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে বর্তমান পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়াবহ বলে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে আটক অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে বলেন, আন্দোলনকারীদের আটক করতে থাকলে একসময় কারাগারে জায়গার অভাব দেখা দেবে।
আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুকও। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া না হলে আমরণ অনশন কিংবা পদযাত্রার মতো কর্মসূচি শুরু করতে পারেন তিনি।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আন্দোলনকারীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ বিক্ষোভকে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ভারত একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। দেশ পরিচালিত হবে সংসদ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, রাজপথের বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে নয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করায় যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে আন্দোলনকারীরা এই সিদ্ধান্তকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। রোববারও দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনেও অধিকাংশ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার পর অভিজিৎ দীপকে ও ধ্রুব রাঠির আটক থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে চারজনের সুনির্দিষ্ট আইনি অবস্থা সম্পর্কে পৃথক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au