ঝাড়ফুঁকের আড়ালে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, মাদরাসার হুজুর গ্রেপ্তার
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় অসুস্থ কিশোরীকে ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হোসাইন আহম্মেদ (৫৫) নামে এক মাদরাসার হুজুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায়…
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে তাঁকে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ায় যুবরাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। তাঁকে জনসমাগম ও জনদৃষ্টির বাইরে রেখে বিশেষভাবে নির্বাচিত একটি নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জনসমক্ষে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা, ফ্লাইট চলাচলে বিপর্যয়
সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সরবরাহ করা তথ্যে বলা হয়েছে, গত শনিবারের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। হামলাটিকে গত এক দশকে সৌদি আরবে সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
হুতিদের এক মুখপাত্র ওই হামলার দায় স্বীকার করে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত পাঁচ দিনে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারবার হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সপ্তাহান্তের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছে।
উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিমানবন্দরের অচলাবস্থার কারণে রিয়াদ থেকে নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে যাত্রী পরিবহন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি সৌদি আরবের
হুতিদের হামলার জবাবে সৌদি আরব কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, হামলার ভয়াবহতা বিবেচনায় সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াও সমপর্যায়ের কঠোর হবে।
তবে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সৌদি আরব গত মাসে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে এসেছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাত
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের পটভূমি রয়েছে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার পর থেকে হুতিদের সঙ্গে রিয়াদের সংঘাত আরও তীব্র হয়। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তবে সরবরাহ করা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা আবারও বেড়ে যায়। ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর থেকে হুতি প্রতিনিধিদের নিয়ে ইরানের একটি উড়োজাহাজ তেহরানের উদ্দেশে উড্ডয়নের চেষ্টা করলে সৌদি বাহিনী গুলি চালায় বলে অভিযোগ তোলে হুতিরা। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
উত্তেজনা নিয়ে উদ্বিগ্ন ইরান
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আরব উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনায় তেহরান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, এ সংঘাতের ফলে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল সরকারই লাভবান হবে।
এদিকে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে গত রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাজনৈতিক সমাধানের পথ উপেক্ষা করে কেবল সামরিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করার বিষয়ে রিয়াদকে সতর্ক করেন।
একই সঙ্গে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুবরাজের নিরাপত্তা ঘিরে বাড়ছে আলোচনা
সৌদি আরবের নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা এখন একই সঙ্গে চাপের মুখে রয়েছে। একদিকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, অন্যদিকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সরঞ্জামের মজুত নিয়ে উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এ অবস্থায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বিভিন্ন সুরক্ষিত রাজপ্রাসাদে সরিয়ে নেওয়ার খবর সৌদি নেতৃত্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তাঁর অবস্থান পরিবর্তনের নির্দিষ্ট কারণ, ব্যবহৃত নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তারিত এবং জনসমক্ষে অনুপস্থিতির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au