নিজের পিতা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ থেকে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষাকেন্দ্রের বিকাশ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে জড়িয়ে আছে বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর নাম। তাঁর দান, শিক্ষানুরাগ ও উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ক্যাম্পাসে মন্দির নির্মাণের জায়গা এবং ধর্মীয় উপাসনাস্থলের মর্যাদা নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে। পুরান ঢাকার এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিকড় ঊনবিংশ শতাব্দীতে। একটি স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি কলেজে উন্নীত হয়েছে, পরে পেয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা। দীর্ঘ এই পথপরিক্রমায় যাঁর নাম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িয়ে আছে, তিনি মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিকাশে তাঁর ভূমিকা শুধু একটি নামকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ, স্থানান্তর, পরিচালনা ও সম্প্রসারণের উদ্যোগের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে আছে। নিজের পিতা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর স্মৃতিকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে তিনি যে ঐতিহ্যের সূচনা করেছিলেন, তা পরবর্তী সময়ে জগন্নাথ কলেজ এবং বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মন্দির নির্মাণের জায়গা, উপাসনাস্থলের নিরাপত্তা এবং মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্না ও ভোজের আয়োজন নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর অবদান নিয়েও আলোচনা সামনে এসেছে। তবে ঐতিহাসিকভাবে জমি দানের বিষয়টি এবং বর্তমান ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট জমির মালিকানা ও ব্যবহারসংক্রান্ত প্রশ্ন আলাদা করে দেখা জরুরি।
ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল থেকে জগন্নাথ কলেজ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সূত্রপাত ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুলের মাধ্যমে। দীননাথ সেন, প্রভাতীচরণ রায়, অনাথবন্ধু মল্লিক ও ব্রজসুন্দর মিত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। সে সময় বাংলায় আধুনিক শিক্ষার প্রসারে শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ও ব্রাহ্মসমাজের অনুসারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
প্রতিষ্ঠার পর আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত সংকটে পড়া স্কুলটির দায়িত্ব একপর্যায়ে কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর হাতে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিষয়ক বিবরণে ১৮৬৮ সালের কথা উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে আরমানিটোলা থেকে বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানে স্থানান্তর করেন এবং নিজের পিতা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নাম অনুসারে এর নাম রাখেন জগন্নাথ স্কুল।
তবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে দায়িত্ব গ্রহণ ও নামকরণের সময় নিয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সাল ও জমি হস্তান্তরের বিস্তারিত তথ্যের ক্ষেত্রে প্রামাণ্য দলিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি গুরুত্বপূর্ণ।
১৮৮৪ সালে জগন্নাথ স্কুল কলেজে উন্নীত হয় এবং জগন্নাথ কলেজ নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম শ্রেণির কলেজের মর্যাদা পায়। পরবর্তী কয়েক দশকে এটি পূর্ব বাংলার গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি অর্জন করে। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
জমিদাতা হিসেবে কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর অবদান
কিশোরীলাল রায় চৌধুরী ছিলেন মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদার পরিবারের সদস্য। ১৮৪৮ সালে তাঁর জন্ম এবং ১৯২৫ সালে মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও জনহিতকর কাজে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা এসব বিবরণে উঠে এসেছে।
তাঁর অবদানের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু একটি নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। প্রতিষ্ঠানটির বিকাশের জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং নিজের পিতার স্মৃতিকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। এ কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে তাঁর নাম প্রতিষ্ঠানের বিকাশের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ইতিহাসেও কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর নাম পাওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮৮৪ সালে তিনি তাঁর পিতা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর স্মৃতি রক্ষার্থে জগন্নাথ কলেজ ও জগন্নাথ হল প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি দান করেন।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠান। ঐতিহাসিকভাবে তাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও একটির জমিদানের তথ্য দিয়ে অন্যটির বর্তমান ক্যাম্পাসের সম্পূর্ণ জমির মালিকানা বা দানের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জমির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, দানপত্রের শর্ত এবং জমির ব্যবহারসংক্রান্ত ইতিহাস নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দলিল ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
পিতার নামে প্রতিষ্ঠান, প্রজন্মের পর প্রজন্মের উত্তরাধিকার
কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর উদ্যোগে তাঁর পিতা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নাম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়। সেই নাম সময়ের সঙ্গে স্কুল থেকে কলেজ এবং কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়ে রূপান্তরিত হয়েছে।
এই ইতিহাসের গুরুত্ব শুধু একটি পরিবারের স্মৃতি সংরক্ষণে নয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত ছিল, তখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং সেটিকে টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা সমাজের শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। জমি, অর্থ, ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক উদ্যোগের সমন্বয় ছাড়া সে সময় এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সহজ ছিল না।
কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর অবদানকে তাই বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক উদ্যোক্তা, শিক্ষক, পরবর্তী দাতা, শিক্ষার্থী এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের ভূমিকাও যথাযথভাবে স্বীকার করা জরুরি।
ক্যাম্পাসের মন্দির নিয়ে বিতর্ক
কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর ঐতিহাসিক অবদান নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাসে ধর্মীয় উপাসনাস্থলের জায়গা ও মর্যাদা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে আগে একটি মন্দির ছিল, যা পরবর্তী সময়ে ভেঙে ফেলা হয়। এরপর নতুন মন্দির নির্মাণের জন্য জায়গা চাওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জায়গার সংকটের কথা বলা হয়েছিল বলে তাঁরা দাবি করেন। শিক্ষার্থীদের দেখানো একটি স্থানে মন্দির নির্মাণের পরিবর্তে শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের একাংশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাঁরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে ক্যাম্পাসে মন্দির নির্মাণ করেন। তবে পুরোনো মন্দির ভাঙার কারণ, নতুন মন্দিরের জন্য জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নথি প্রয়োজন।
এই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে মন্দিরের সামনে গরু জবাই ও ভোজ আয়োজনকে কেন্দ্র করে। হিন্দু শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে অন্য জায়গা থাকা সত্ত্বেও মন্দিরের সামনে এ ধরনের আয়োজনের উদ্যোগ তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতি ও উপাসনাস্থলের মর্যাদাকে উপেক্ষা করার শামিল।
তাঁদের বক্তব্য, বিষয়টি শুধু খাদ্যাভ্যাস বা কোনো আয়োজনের স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়। বরং একটি ধর্মীয় উপাসনাস্থলের সামনে এমন আয়োজনের স্থান নির্বাচন কেন করা হচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁরা ক্যাম্পাসে সব ধর্মের শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পশু জবাই নিয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা
ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বুধবার, ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আজম খানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে গণবিজ্ঞপ্তির সূত্র হিসেবে ‘জিএসসিসি/পিআরডি/৭৯/২০২৬-২০২৭’ উল্লেখ করা হয়।
তবে প্রশাসনের নির্দেশনার পরও পরদিন প্রকাশ্যে গরু জবাই করে ভোজ আয়োজনের ঘোষণাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হিন্দু শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা আমাদের জায়গা থেকে সংযত আছি এবং থাকব। বিষয়টি আমরা প্রশাসনের কাছে ছেড়ে দিয়েছি। তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা নেবে, তাতে আমাদের আপত্তি নেই।”
তাঁর ভাষ্য, পরিস্থিতি অন্যদিকে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এর সমাধান হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ধর্মীয় উপাসনাস্থলের সামনে আয়োজনের স্থান নির্বাচন এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, প্রয়োজন সবার জন্য সমান মর্যাদা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে জমিদাতা ও শিক্ষানুরাগীদের অবদান স্বীকার করার পাশাপাশি বর্তমান ক্যাম্পাসে সব ধর্মের শিক্ষার্থীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একক সম্পত্তি নয়। একইভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতি বা উপাসনাস্থলের মর্যাদাকে উপেক্ষা করাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ক্যাম্পাসে গরু জবাই বা ভোজের আয়োজন নিয়ে বিরোধ থাকলে প্রশাসনের দায়িত্ব হলো নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা, জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হলে তা প্রতিরোধ করা। কোনো আয়োজনের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি সম্মান ও সংবেদনশীলতা দেখানোও প্রয়োজন।
মন্দিরের জন্য জায়গা বরাদ্দের প্রশ্নে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, ক্যাম্পাসে আগে থাকা মন্দিরের ইতিহাস এবং জমি ব্যবহারের নীতিমালা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হলে বিতর্কের অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য শিক্ষার্থী ও প্রশাসন উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা জরুরি।
ইতিহাসের স্বীকৃতি ও বর্তমানের দায়িত্ব
কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর নাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে তাঁর শিক্ষানুরাগ, পিতার নামে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ এবং এর বিকাশে ভূমিকার কারণে। তাঁর মতো দাতাদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা যেমন জরুরি, তেমনি তাঁদের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে কেন্দ্র করে বর্তমানের কোনো বিরোধের সমাধান করতে হলে প্রামাণ্য তথ্য ও ন্যায়সংগত নীতির ওপর নির্ভর করাও প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির শিকড় ঊনবিংশ শতাব্দীর শিক্ষা বিস্তারের উদ্যোগে প্রোথিত। আজ এটি বিভিন্ন ধর্ম, অঞ্চল ও সামাজিক পরিচয়ের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান। তাই এর ঐতিহ্য রক্ষার অর্থ শুধু অতীতের দাতাদের স্মরণ করা নয়, বরং বর্তমানের প্রতিটি শিক্ষার্থীর সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর অবদান স্মরণীয়। সেই ইতিহাসের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানোর পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি, ন্যায়সংগত আচরণ এবং সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করাই হবে এই ঐতিহ্যের যথার্থ মূল্যায়ন।