দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। পুলিশ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংগঠনটি বলেছে, শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক ঘটনা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
১৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঐক্য পরিষদ জানায়, দুর্গাপূজার সময় যত এগিয়ে আসছে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আশঙ্কাও তত বাড়ছে। সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক ঘটনার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সময়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৬টি, ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ৪০টি এবং মন্দিরে হামলা, লুটপাট, জায়গা দখল ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ৩৬টি। এ ছাড়া ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
ঐক্য পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে সাতটি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ১১টি এবং চুরি, ডাকাতি, হামলা, ছিনতাই, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে ২৬টি। একই সময়ে জমি ও সম্পত্তি দখলের ১৪টি, অপহরণ, হত্যার হুমকি ও হয়রানির তিনটি এবং চাঁদাবাজির ৪০টি ঘটনার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপিত একটি মন্দিরের সামনে গরুর মাংস ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মতে, এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ। তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ঘটনাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এতে উল্লেখ করা হয়নি।