ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা
হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…
যুদ্ধ, জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ একের পর এক বৈশ্বিক সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি চাপে পড়েছে। এসব সংকটের প্রভাবে চলতি বছর আরও প্রায় ১৩ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির আশঙ্কা, জ্বালানি ও খাদ্যের বাড়তি ব্যয় পুরোপুরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ‘নো টাইম টু রিকভার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক সংকটের এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে যোগ দিতে ব্যাংককে অবস্থানকালে ইউএনডিপির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বিশ্ব এক সংকট কাটিয়ে ওঠার আগেই আরেক সংকটে পড়ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ বছরের তুলনায় বিশ্বে সশস্ত্র সংঘাতের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্বজুড়ে সক্রিয় সশস্ত্র সংঘাতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩০টি। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারি এবং বিভিন্ন যুদ্ধের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নতুন সংকটের মুখে পড়েছে অনেক দরিদ্র দেশ। এসব সংকট মোকাবিলায় সরকারগুলোকে একদিকে সাধারণ মানুষের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালাতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও ধরে রাখতে হচ্ছে। কিন্তু বারবার সংকট দেখা দেওয়ায় নতুন করে সহায়তা দেওয়ার মতো অর্থের জোগান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকার গড়ে তাদের মোট রাজস্বের প্রায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ শুধু ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করছে। ২০০১ সালের পর এটি সর্বোচ্চ পর্যায়। ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় হওয়ায় জরুরি সহায়তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক বিনিয়োগের জন্য সরকারের হাতে অর্থ কমে যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাব শক্তিশালী হয়ে ডিসেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোর প্রয়োজন অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ, পর্যাপ্ত সময় এবং সহজলভ্য অর্থায়ন। তাঁর মতে, একের পর এক সংকটের কারণে অনেক দেশ নিজেদের অর্থনীতি পুনর্গঠন করার সুযোগই পাচ্ছে না।
জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, যুদ্ধ, ঋণের বোঝা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জলবায়ুগত ঝুঁকি একসঙ্গে মোকাবিলা করতে না পারলে দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: এএফপি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au