যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৪
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন শিক্ষকও রয়েছেন। এ ঘটনায় সাত বছর বয়সী এক…
বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান এলাকায় পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী ‘কাজ নেই, বেতন নেই’ নীতিতে কারখানাগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর পক্ষ থেকে পৃথক নোটিশ জারি করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বন্ধ ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ভার্সাটাইল অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড, এমব্রেলা লিমিটেড, নাইস অ্যাপারেলস ইন্ডাস লিমিটেড, ড্যাজলিং ড্রেসেস লিমিটেড এবং ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেড।
কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে বেআইনি ধর্মঘট, কাজে যোগ না দেওয়া এবং কর্মস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
দক্ষিণখানের চালাবন এলাকায় অবস্থিত নাইস অ্যাপারেলসের নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু শ্রমিক কারখানার প্রধান ফটকে বাধা সৃষ্টি করেছেন এবং অন্য শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, ওলিও অ্যাপারেলস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকদের কাজে ফেরানো এবং সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় নিরাপত্তা বিভাগের কার্যক্রম ছাড়া কারখানাগুলোর অন্যান্য কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী নোটিশের মাধ্যমে কারখানা খোলার সময় জানানো হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর থেকে উত্তরার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি।
আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বারবার দাবি জানানোর পরও সমাধান না পাওয়ায় তাঁরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
বৃহস্পতিবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। এতে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী, বেআইনি ধর্মঘটের কারণে কোনো কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা বন্ধকালীন সময়ের মজুরি পাবেন না। তবে ধর্মঘটে অংশ না নেওয়া শ্রমিকদের মজুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার সুযোগ এই ধারায় নেই। তাঁদের ক্ষেত্রে আইনের অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au