দুই মাসের কম সময়ে ফের ঢাকায় ভুটানের রাজা, যাত্রাবিরতির আড়ালে কি ঘটছে?
দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবতরণ করেছে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুককে বহনকারী একটি বিমান। শুক্রবার দুপুরে ড্রুক এয়ারের…
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে সামরিক সহযোগিতা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের এই অনুরোধের পর মধ্যপ্রাচ্যে নৌ-নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে সিউল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক কিউংহিয়াং শিনমুন-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জলদস্যুবিরোধী নৌবাহিনী ‘চেওংহে ইউনিট’-এর কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। ২০০৯ সালে এডেন উপসাগরে মোতায়েন করা এই ইউনিটের কার্যক্রম ওমান উপসাগর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ওমান উপসাগর হরমুজ প্রণালির সঙ্গে সংযুক্ত।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের প্রশাসন চেওংহে ইউনিটের মিশনের মেয়াদ বাড়াতে পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপনের পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে ইউনিটটির মিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। এ ছাড়া ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে একটি ফ্রিগেট বা যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, চেওংহে ইউনিটের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এর কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তাব পার্লামেন্টে পাঠানো হবে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তবে ইউনিটটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এডেন উপসাগরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় সেখানে জলদস্যুদের তৎপরতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম ওয়াইটিএনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চেওংহে ইউনিটে রয়েছে ৪ হাজার ৪০০ টন ওজনের একটি ডেস্ট্রয়ার, একটি সামুদ্রিক হেলিকপ্টার, সর্বোচ্চ তিনটি দ্রুতগামী ছোট নৌকা এবং প্রায় ৩০০ সামরিক সদস্য।
এর আগে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা পর্যাপ্ত নয় বলে সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। একই সময়ে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসরও কমানো হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এশীয় মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এমন কোনো সামরিক সম্পদ মোতায়েন করা হবে না, যা তাঁর দেশকে কোনো সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
তবে ওই অঞ্চলে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে কি না, সে বিষয়ে পর্যালোচনা চলার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
সিউলের সামনে এখন মূল বিবেচ্য বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটিকে সরাসরি কোনো সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে দূরে রাখা।
সূত্র : রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au