দুই মাসের কম সময়ে ফের ঢাকায় ভুটানের রাজা, যাত্রাবিরতির আড়ালে কি ঘটছে?
দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবতরণ করেছে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুককে বহনকারী একটি বিমান। শুক্রবার দুপুরে ড্রুক এয়ারের…
গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু ও মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছে রান্নার আয়োজন থেকে শুরু হওয়া বিতর্কের জেরে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ, গরুভোজের ঘোষণা এবং শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে গরু জবাইয়ের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিবেশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ অক্টোবর। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন। আয়োজনস্থলের পাশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির থাকায় কয়েকজন হিন্দু শিক্ষার্থী আপত্তি জানান।
হিন্দু শিক্ষার্থীদের দাবি, মন্দিরের সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে গরুর মাংস রান্না করা হয়েছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটিও হয়। তবে আয়োজক শিক্ষার্থীরা বলছেন, কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। আপত্তির পর তারা মন্দির থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে রান্না করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব জয় সাহাও মন্দির থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে রান্না করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তার ভাষ্য, মন্দিরের সামনে রান্না করতে দেখে তারা প্রথমে বিষয়টি জানতে চান। পরে গরুর মাংসের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আপত্তি জানান।
জয় সাহা জানান, ১২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে তিনি ও আরও কয়েকজন মন্দিরের সামনে শিক্ষার্থীদের খিচুড়ি রান্না করতে দেখেন। তারা গিয়ে জানতে চান, কীসের খিচুড়ি রান্না হচ্ছে। প্রথমে আয়োজকেরা বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি। পরে একজন গরুর মাংসের কথা জানান।
জয় সাহার ভাষ্য, মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্না করায় তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে। তারা রান্নার স্থান সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে গেলে রান্নার স্থান মন্দির থেকে প্রায় দশ হাত দূরে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সেদিন রাতে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মিছিল করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রশাসনের এ বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। পরে শুক্রবার ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে ভোজের কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করা হয়। আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে খিচুড়ি ও গরুর মাংস বিতরণের কথা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার গরুভোজের জন্য এক লাখ ২৫ হাজার টাকায় একটি গরু কেনা হয়। গরুটি ক্যাম্পাসে আনার পর আনন্দমিছিল করেন আয়োজকেরা। এ সময় গরু খাওয়ার অধিকার এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে সবাইকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান জকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন থেকে পাওয়া অর্থ এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির অনুদানে গরুটি কেনা হয়েছে।
জকসুর নির্বাচিত কমিটির ভিপি, জিএসসহ অধিকাংশ সদস্য ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা। এ কারণে গরুভোজের কর্মসূচি এবং প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান বিতর্ক রাজনৈতিক মাত্রাও পেয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, তাদের বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক আজম খান বলেন, ‘আমরা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গরু জবাই নিয়ে সিটি করপোরেশনের বিজ্ঞপ্তিটা নোটিশ আকারে দিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মার্জিত ও সুশৃঙ্খলভাবে গরুভোজ কর্মসূচি আয়োজন করা হলে কোনো আপত্তি থাকবে না। অর্থাৎ, কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুমতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au