দুই মাসের কম সময়ে ফের ঢাকায় ভুটানের রাজা, যাত্রাবিরতির আড়ালে কি ঘটছে?
দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবতরণ করেছে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুককে বহনকারী একটি বিমান। শুক্রবার দুপুরে ড্রুক এয়ারের…
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সারা দেশে উৎসব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি কল্যাণমূলক, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অঙ্গীকার।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা, আপনারা উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে, নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সারা দেশে উৎসব, আনন্দ উদযাপন করুন।”
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সাধনও প্রতিটি ধর্মের অন্যতম প্রধান শিক্ষা। এসব মূল্যবোধের চর্চার মধ্য দিয়ে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হতে পারে।
দুর্গাপূজার ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন করেন, শত্রুর বিনাশ করেন এবং সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্য বিশেষ মাত্রা পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। বিভিন্ন ধর্ম, গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ধর্ম পালনের এই চর্চা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্যকে তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন প্রকাশ পায়। এই বহুত্ববাদী সামাজিক ঐতিহ্য দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বাণীতে তারেক রহমান বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল-মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য অর্জনে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। দুর্গাপূজার আনন্দ যেন সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শুভেচ্ছা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে, সেই প্রত্যাশাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও নানা কর্মসূচি পালিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে উৎসব উদযাপনের স্বাধীনতা, নাগরিকের নিরাপত্তার অধিকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au