অগ্নিকাণ্ডে নারীর আহাজারি, ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টের সামনে এক নারীর আহাজারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘আমার…
চীনে দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি কৃত্রিম টাইফুন, বন্যা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন পর্যটকেরা। দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ডার্ক ট্যুরিজম’ বা দুর্যোগকেন্দ্রিক পর্যটন। কৃত্রিম দুর্যোগের মুখে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হয়, তা শেখার পাশাপাশি অতীতের ভয়াবহ বিপর্যয় ও ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই এই প্রবণতা বাড়ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বিভিন্ন শহরে এখন কৃত্রিম দুর্যোগের অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য বিশেষ কেন্দ্র ও জাদুঘর গড়ে উঠেছে। হ্যাংঝৌ শহরের ‘লুজিং বেস’ নামের প্রায় ২ লাখ ২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের একটি কেন্দ্রে কৃত্রিমভাবে টাইফুন ও ভূমিধসের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। সেখানে অর্থের বিনিময়ে অংশ নিয়ে পর্যটকেরা দুর্যোগের ভয়াবহতা অনুভব করার পাশাপাশি তা থেকে বেঁচে থাকার কৌশল শেখেন।
এ ছাড়া বেইজিং ও গুয়াংঝৌ শহরেও চার মাত্রার প্রযুক্তি এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্যোগের সময় কীভাবে শান্ত থাকতে হবে, নিরাপদে সরে যেতে হবে এবং জীবন রক্ষার জন্য কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে ১০টি টাইফুন ও রেকর্ড তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এমন পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের সক্ষমতা বাড়াতে স্থানীয় সরকারগুলোকে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও দুর্যোগবিষয়ক শিক্ষার প্রসারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই পর্যটনের আকর্ষণ শুধু কৃত্রিম দুর্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চীনের বিভিন্ন ভয়াবহ বিপর্যয় ও ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতেও তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। ২০০৮ সালে সিচুয়ানে ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো এখন অতীতের বিপর্যয় সম্পর্কে জানার অন্যতম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। একইভাবে নানজিং গণহত্যার স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতেও দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব স্থানের অনেকগুলোতে প্রবেশ বিনামূল্যে হলেও দর্শনার্থীদের আগে থেকে বুকিং করতে হয়। প্রতিদিন হাজারো মানুষ সেখানে গিয়ে অতীতের ভয়াবহ ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানছেন এবং নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের নতুন প্রজন্মের পর্যটকেরা এখন শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান না, বরং কোনো স্থান বা ঘটনার গভীর অভিজ্ঞতাও পেতে আগ্রহী। দুর্যোগ মোকাবিলার কৌশল শেখার পাশাপাশি দেশের ইতিহাস, অতীতের দুর্ভোগ ও মানুষের সংগ্রাম সম্পর্কে জানার আকাঙ্ক্ষাও তাঁদের এই পর্যটনে আকৃষ্ট করছে।
ফলে চীনে ‘ডার্ক ট্যুরিজম’ এখন শুধু বিনোদন বা ভ্রমণের নতুন ধারা নয়, দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরির একটি মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সুত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au