কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত অন্তত ২০, আহত বহু
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার উত্তরাঞ্চলে দুর্গাপূজার মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও এক শিশু রয়েছে।…
আজ মহাসপ্তমী। ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি আর উৎসবের আমেজে মুখরিত খুলনার পূজামণ্ডপগুলো। এরই মধ্যে নগরীর বাগমারা তেঁতুলতলা সর্বজনীন পূজামন্দিরে নজর কেড়েছে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন। প্রায় ৩০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে শৈল্পিক কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। বাংলার কৃষি ঐতিহ্য ও শারদীয় উৎসবের মেলবন্ধনে তৈরি এ প্রতিমা দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
মণ্ডপের সাজসজ্জায় প্রাধান্য পেয়েছে সোনালি ধানের আবহ। শরতের নীল আকাশ, পাকা ধানের রং আর গ্রামীণ বাংলার চিরায়ত রূপ মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে নান্দনিক পরিবেশ।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জায় প্রায় দেড় মাস ধরে কাজ করেছেন শিল্পী ও কারিগররা। প্রতিমা শিল্পী নিমাই পালের নিপুণ হাতে চিনিগুঁড়া ধান, খড়সহ গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপকরণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রতিমার অবয়ব।
ধানের কারুকাজ বসানোর পর প্রতিমায় করা হয়েছে রঙের কাজ। সব মিলিয়ে সোনালি ধানের শৈল্পিক উপস্থাপনায় প্রতিমাটি পেয়েছে ভিন্নমাত্রা।
বাগমারা তেঁতুলতলা সর্বজনীন পূজামন্দিরের সভাপতি রনজিৎ রায় বলেন, কৃষি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো এবং বাংলার ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধান এ দেশের কৃষি ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের প্রতীক। তাই ধান দিয়ে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুমন রায় বলেন, খুলনায় নতুন ভাবনায় শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য সোনালি ধানের আবহে প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে। উৎসবের দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও পূজার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাও কাজ করছেন।
এদিকে মহাসপ্তমী ঘিরে খুলনার মণ্ডপগুলোতে বেড়েছে উৎসবের ব্যস্ততা। কোথাও আলোকসজ্জা, কোথাও তোরণ নির্মাণ, আবার কোথাও মণ্ডপের শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা চলছে।
পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায়প্রতিমা মোট ৯৬৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ৮৯০টি এবং মহানগরে ৭৬টি মণ্ডপ রয়েছে।
খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা বলেন, বাঙালির শারদীয় উৎসব এখন বিশ্ব উৎসবে পরিণত হয়েছে। দর্শনার্থীরা রাতভর মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা ও প্যান্ডেল দেখতে ভিড় করেন। উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, দুর্গাপূজায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au