কয়েন চকলেট দিয়ে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা। ছবি : সংগৃহীত
সোনালি রঙের ১০ হাজার কয়েন চকলেট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দুর্গাপ্রতিমা। ব্যতিক্রমী এ প্রতিমা দেখতে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর শ্রীশ্রী গঙ্গামাতা মন্দিরের পূজামণ্ডপে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা। প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে তৈরি এ প্রতিমা দুর্গোৎসবে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
তাহেরপুরের হালদারপাড়ায় স্থানীয় সামাজিক সংগঠন নবজাগরণ সংঘের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে প্রতিমাটি। প্রতিমার সোনালি সাজ ও নির্মাণশৈলী দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে। অনেকে প্রতিমাটি দেখতে এসে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে চকলেট দিয়ে তৈরি দুর্গাপ্রতিমার ছবি ও ভিডিও। ফলে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। পূজামণ্ডপে আসা দর্শনার্থীদের কাছে প্রতিমাটি হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ।
১০ হাজার চকলেটে প্রতিমার সাজ
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর দুর্গাপূজায় দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কিছু করার চেষ্টা করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার কয়েন চকলেট দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী তৈরি করা হয় ব্যতিক্রমী এ প্রতিমা।
প্রতিমাটি নির্মাণ ও সাজসজ্জায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পিস কয়েন চকলেট। সোনালি রঙের চকলেট দিয়ে প্রতিমা সাজানোর ফলে এর বাহ্যিক সৌন্দর্যে এসেছে ভিন্নতা।
নাটোরের প্রতিমাশিল্পী নীল কুমার দাস প্রতিমাটির মূল কারিগর। তাঁর নিপুণ হাতে চকলেট দিয়ে প্রতিমাটি সাজানো হয়েছে। প্রচলিত উপকরণের বদলে চকলেট ব্যবহার করায় প্রতিমাটি দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।
দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহ
তাহেরপুর শ্রীশ্রী গঙ্গামাতা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক দ্বীজেন হালদার বলেন, প্রতিবছরই দর্শনার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা থাকে। এরই অংশ হিসেবে এবার কয়েন চকলেট দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি শিবেন হালদার বলেন, চকলেট দিয়ে তৈরি প্রতিমাটি এবারের দুর্গোৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ আয়োজন দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। তাঁদের নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে পূজা উপভোগের জন্য কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।