পরিস্থিতির দায় নিয়ে নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ তা প্রত্যাখ্যান করেন। ছবি: সংগৃহীত
ওটিএন বাংলা ডেস্ক: সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও লুটপাটের পর ফ্রান্সের কিছু শহরে স্থানীয়ভাবে আংশিক কারফিউ জারির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। সোমবার, ১৯ অক্টোবর তিনি জানান, কারফিউ হবে নির্দিষ্ট এলাকা ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে।
সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর ভাষায় নিন্দা করে লেকর্নু বলেন, ভাঙচুরকারী, চোর ও দুর্বৃত্তদের নির্দেশে দেশ চলতে পারে না। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ চেয়েছেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেন, সপ্তাহান্তের সহিংসতার সময় পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। বিক্ষোভের ব্যাপকতা ও সহিংসতার আশঙ্কা আগাম মূল্যায়নেও ঘাটতি ছিল বলে জানান তিনি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় দুই লাখ মানুষের অংশগ্রহণের ধারণা করা হলেও বাস্তবে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ রাস্তায় নামেন।
পরিস্থিতির দায় নিয়ে নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ তা প্রত্যাখ্যান করেন। সহিংসতার পর নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতি নিয়ে বৃহত্তর অসন্তোষ যুক্ত হয়। দেশজুড়ে অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র মার্কুস লামার্ট অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং মানুষ ও সরকারি ভবনে হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের এক করে দেখা উচিত নয়।
-BBC