রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান চান না ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আগ্রহ নেই বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধ করতে চান না।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় জেলেনস্কি যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এতে ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ হচ্ছে। তবে জেলেনস্কি সেই প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তিনি এই যুদ্ধ থামাতেই চান না, সম্ভবত কখনোই চাননি।’
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে ট্রাম্প
রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মস্কোর সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চান তিনি। এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না, যা রাশিয়াকে শান্তি আলোচনার টেবিল থেকে সরিয়ে দিতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই এমন কোনো ‘বোকার মতো কাজ’ করতে চান না, যা আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করবে।
সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে নতুন করে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি উদ্যোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন।
এ ছাড়া রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের ওপর থাকা কিছু বিধিনিষেধও সাময়িকভাবে শিথিল করেছেন ট্রাম্প। বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে তেল ও গ্যাসের দাম কমানোর লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাশিয়ার জ্বালানি খাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেন ও দেশটির মিত্রদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এতে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যকার সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির দাবি
ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনায় ‘বিশাল অগ্রগতি’ হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
একই পোস্টে ট্রাম্প একটি নথিতে স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ওই সময়ে নথিতে স্বাক্ষর করা সম্ভব ছিল, আবার চাইলে পরেও বা যেকোনো সময় তা করা যাবে। তবে তিনি কোন নথির কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ইরান ইস্যুতেও রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য
ট্রাম্প বলেন, ইরানকে সহায়তা করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া বর্তমানে দেশটিকে খুব সামান্য সহায়তা করছে। পরিস্থিতি এভাবেই বজায় রাখতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে অন্যরা এতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এরপর আবারও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য, জেলেনস্কি জানেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সে কারণেই ইউক্রেন এসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতি নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ইউক্রেনের হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি