মেলবোর্ন, ২৫ অক্টোবর- ইতালিতে ক্যাথলিক চার্চের ধর্মযাজকদের হাতে গত কয়েক দশকে অন্তত ৪,৪০০ জন শিশু ও কিশোর যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন – এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে একটি সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনে।
ইতালির বিপক্ষীয় মানবাধিকার কমিশন ও গির্জার অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশজুড়ে শিশু যৌন নির্যাতনের হাজারো অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গির্জা, ও অনাথাশ্রমে।
তদন্তে প্রকাশ পায়, বহু ভুক্তভোগী তখন বয়সে ছিল ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। অনেকেই বছরের পর বছর নীরবে কষ্ট সহ্য করেছেন, কারণ সমাজে গির্জার প্রভাব ও সামাজিক লজ্জার ভয়ে তাঁরা মুখ খুলতে পারেননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ অপরাধী ছিলেন সক্রিয় পুরোহিত বা ধর্মীয় প্রশিক্ষণরত যাজক, বাকিরা ছিলেন চার্চের কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্য।
ভুক্তভোগীদের সংগঠনগুলো জানিয়েছে, চার্চের অভ্যন্তরে যৌন অপরাধের এই সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা হয়েছে। অনেক অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, চার্চ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি “অভ্যন্তরীণভাবে মীমাংসা” করার চেষ্টা করেছে এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেনি।
ইতালির ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলন (CEI) এক বিবৃতিতে বলেছে, এই প্রতিবেদন “চার্চের জন্য গভীর আত্মসমালোচনার সময় এনে দিয়েছে।” তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বলছে, শুধুমাত্র ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয় বরং চার্চ ও সরকারের উচিত স্বাধীন বিচারিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও আয়ারল্যান্ডের মতো ইউরোপের অন্যান্য দেশে যেমন গির্জার যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, ইতালির এই প্রতিবেদনও ক্যাথলিক চার্চের নৈতিক সংকটকে আরও উন্মোচিত করল।
সূত্র : রয়টার্স