ঐতিহাসিক ৭ মার্চ: বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার অমর দিকনির্দেশনা
মেলবোর্ন ৭ মার্চ: আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটি এক অনন্য, অবিস্মরণীয় এবং গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই…
মেলবোর্ন, ১৬ অক্টোবর- ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের বালিকপাপন উপকূলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী ও দমকল বাহিনী যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়, তবে বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জাহাজটি আংশিকভাবে ডুবে গেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বালিকপাপন বন্দর কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানান,
“সকালে স্থানীয় সময় প্রায় ৯টার দিকে জাহাজে একটি জ্বালানি পাইপলাইন লিক হয়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো জাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।”
জাহাজটি স্থানীয় একটি তেল কোম্পানির মালিকানাধীন এবং এতে প্রায় ৫০ হাজার লিটার ডিজেল ও কেরোসিন বহন করা হচ্ছিল।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রক্ষণাবেক্ষণের সময় কোনো বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (BNPB) জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং দমকলের ১২টি ইউনিট কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে পানির নিচে অনুসন্ধান অভিযান চলছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী বুদি কারিয়া সুমাদি দুর্ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন,
“আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে তেলবাহী জাহাজগুলোতে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এই দুর্ঘটনা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।”
দুর্ঘটনার পর আশপাশের সমুদ্র এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বালিকপাপানের উপকূলীয় অঞ্চলে তেল ছড়িয়ে পড়া রোধে বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দ্বীপদেশ, যেখানে সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহন প্রায় প্রতিদিনই হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেলবাহী জাহাজে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে গেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
২০২৩ সালে একই প্রদেশে আরেকটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লেগে ৭ জন নিহত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক তেল পরিবহন খাতে পুরনো ও অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা মানের কারণে এই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। কার্যকর নজরদারি ও প্রশিক্ষণ ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au