মেলবোর্ন, ২৫ অক্টোবর- মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ (USS Gerald R. Ford) মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ওয়াশিংটন সূত্রে জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুদ্ধজাহাজটি ভেনেজুয়েলা ও কিউবার উপকূলবর্তী অঞ্চলে টহল দেবে, যেখানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও চীনের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বেড়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ মূলত লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ, যেখানে রাশিয়া, চীন ও ইরান ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করছে।
‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ও শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী। এটি পারমাণবিক শক্তিচালিত এবং এতে ৭৫টিরও বেশি যুদ্ধবিমান, উন্নত রাডার ব্যবস্থা ও সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি রয়েছে। প্রায় ৪,৫০০ নৌসেনা ও কর্মী এই রণতরীতে কর্মরত থাকবেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, জাহাজটির সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধগোষ্ঠী (Carrier Strike Group) পাঠানো হবে, যার মধ্যে রয়েছে ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, “আমরা আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা ও কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা বলেছে, এটি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে এবং নতুন করে শীতল যুদ্ধের উত্তেজনা সৃষ্টি করবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মোতায়েনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শনই করছে না, বরং লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন ভূরাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে বিশেষত রাশিয়া ও চীনের প্রতি।
সূত্র: রয়টার্স