মেলবোর্ন, ২৫ অক্টোবর- ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার নতুন করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। শহরজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কিয়েভ সিটি প্রশাসনের প্রধান সের্হি পোপকো জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী ভোররাতে কয়েক দফায় ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। ইউক্রেনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শহরের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ভবন আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া অন্তত ২৫টি ড্রোন ও ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ২০টির বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলো।
অন্যদিকে, রাশিয়া দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনীয় সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে “সফল আক্রমণ” চালিয়েছে। মস্কো বলছে, তাদের হামলায় ইউক্রেনের অস্ত্র গুদাম ও যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে।
হামলার পর কিয়েভে জরুরি উদ্ধার অভিযান চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বোমা-শেল্টারে অবস্থান করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাইরে না বের হতে অনুরোধ জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “রাশিয়া আবারও প্রমাণ করল, তারা কেবল ধ্বংস আর আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়। ইউক্রেন কোনোভাবেই পিছু হটবে না।”
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে শীত আসার আগে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে। এতে দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স