নিখোঁজের পর পুকুর মিলল ৪ কন্যাশিশুর মরদেহ
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুকুরের পানিতে ডুবে চার কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত…
মেলবোর্ন, ২৭ অক্টোবর- দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং নতুন করে ১,১৪৩ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন-স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে চলতি বছরে মশাবাহিত এই রোগে মোট মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৩-এ এবং বছরের শুরু থেকেই মোট হাসপাতাল ভর্তি হয়েছে ৬৫,৪৪০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত একদিনে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুইজনকে ঢাকায়, একজনকে রাজশাহীতে এবং একজনকে বরগুনার একটি জেলা হাসপাতলে নেয়া হয়েছিল-মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত বয়স ও হাসপাতালে নেয়া সম্পর্কিত তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত বুলেটিনে অনুক্রমে দেওয়া হয়েছে। রেকর্ড অনুযায়ী চলতি মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা তীব্রভাবে বেড়েছে; অক্টোবরেই এ বছর সবচেয়ে বেশি-প্রায় ১৮,০৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এই মাসে দেখা গিয়েছে ৬৫ জনের মতো বেশি মৃত্যু।
রিপোর্টে বলা হয়েছে বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ৯৩০ রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং সারাদেশে মোট প্রায় ২,৭৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন-এই রোগীর চাপ বিশেষত ঢাকা শহরের হাসপাতালগুলোতে অনুভূত হচ্ছে। বিশেষত শিশু ও বৃদ্ধরা দ্রুত জটিলতা লাভ করছে বলে চিকিত্সকরা সতর্ক করেছেন। হাসপাতালগুলোতে বেড-ওয়ার্ড, ডিহাইড্রেশনের বিরুদ্ধে তরল সঞ্চালন ব্যবস্থা ও ইন্ধনসামগ্রী দ্রুতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বৈজ্ঞানিক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন-প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘমেয়াদি বৃষ্টি-জমাট বাঁধা জল, নির্মাণস্থল ও আবর্জনা স্তূপে জল পাকানো, এবং মাসিক নিশ্ছিৎ মশাবংশ বিস্তারশীল পরিবেশ ডেঙ্গু বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এছাড়া জনগণের মধ্যে প্রতিরোধমূলক আচরণ নাও থাকায় (ঘরের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশারি ও ঘরোয়া ব্যবস্থায় সতর্কতা) এবং গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসা নিতে দেরি করাও হাসপাতালে উচ্চ রোগীর ঝুঁকি বাড়িয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ বছর অক্টোবর-মাসে সংক্রমণের ঝাঁক বৃদ্ধি বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত বৃত্তিমূলক মশা নিধন অভিযান (fogging), জলজমা অপসারণ, ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে-ঘরের আশপাশে পানির টালি সরাতে, প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নোটিশ ধরিৎ দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করতে এবং জ্বর হলে সময়মতো রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু নির্ণয় করাতে। সরকারি সূত্র বলছে, যদি সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া হয় তবে বেশিরভাগ ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে যায়।
চলতি সিজনে ডেঙ্গু সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়ছে-অতএব স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যখাত ও জনগণকে সমন্বিত ও সতর্ক প্রচারণা চালিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। ঢাকাসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি ভর্তির চাপ থাকায় হাসপাতালে সেবা ও কার্যক্রম মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে; আক্রান্ত বা জ্বর হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au