মেসির বিদায়ে নেইমারের আবেগঘন বার্তা
লিওনেল মেসির সঙ্গে নেইমার জুনিয়রের সম্পর্কটা শুধু মাঠের সতীর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাদের বন্ধুত্বও ফুটবলবিশ্বে বেশ আলোচিত। বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলার সময় গড়ে উঠেছিল তাদের দারুণ…
দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সরব উপস্থিতির কারণে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন তিনি। কথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় হয়ে বিতর্কিত হওয়ার পর থেকে শুরু করে নারী নির্যাতন, দুর্নীতি ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বক্তব্য—বিভিন্ন সময়ে নানা ইস্যুতে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
তবে বারবার সুযোগসন্ধানী অবস্থান, রাজনৈতিক ভূমিকা, বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যক্তিজীবনের নানা ঘটনা এবং সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য ঘিরে বাঁধনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।
একসময় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা গেছে বাঁধনকে। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও সরব হয়েছেন তিনি। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের সঙ্গেও তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। সব মিলিয়ে নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন—বাঁধনের রাজনৈতিক অবস্থান আসলে কোথায়?
রাজনীতির মঞ্চে বাঁধনের অবস্থান
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাঁধনের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ২০২০ সালের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণাতেও তার উপস্থিতির ছবি প্রকাশ্যে আসে। সেখানে অভিনেতা রিয়াজ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমসহ বিনোদন অঙ্গনের আরও কয়েকজনকে দেখা যায়।
তারানা হালিমের সঙ্গে বাঁধনের ব্যক্তিগত যোগাযোগের কথাও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাঁধন এবং সেসব আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের কথিত আন্দোলনে তার অবস্থান ছিল সরকারের বিরুদ্ধে ও আক্রমাত্মক। আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হওয়ার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।
সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তারানা হালিমের পাশাপাশি স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের সঙ্গে বাঁধনের পুরোনো ছবি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবি ঘিরে কেউ কেউ তাকে ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেও মন্তব্য করছেন।

আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: সংগৃহীত
চলচ্চিত্রের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন, বদলে গেল অবস্থান?
বাঁধনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনার আরেকটি কারণ ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রের ব্যয় ও নির্মাণপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেন বাঁধন। সিনেমাটির খরচের হিসাব প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। একসময় আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন আয়োজনে উপস্থিত থাকা একজন তারকার কাছ থেকে এমন সন্দেহমূলক বক্তব্য আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে তাকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
ভারতীয় ভিসা নিয়ে অভিযোগ
রাজনৈতিক পরিচিতির কারণে ব্যক্তিজীবনে সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও করেছেন বাঁধন। সম্প্রতি ভারতীয় ভিসা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি। বাঁধনের দাবি, ভারতীয় হাইকমিশন তার ভিসার আবেদন চারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। এর কারণ হিসেবে তাকে নুরুল হক নুরের সঙ্গে থাকা একটি ছবি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
বাঁধনের ভাষ্য, ‘ভিপি নুরের সঙ্গে আমার একটি ছবি ছিল, যেটি আমার অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল। ওরা আমাকে এটা নিয়ে প্রশ্ন করেছে। কেন তার সঙ্গে আমার ছবি আছে, তার সঙ্গে আমি কীভাবে যুক্ত—এমন নানা প্রশ্ন করা হয়েছে।’
তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে এসব বিষয় জানিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
বিয়ের পাঁচ মাস পর বিচ্ছেদ
আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে ব্যবসায়ী মাশরুর হোসেন সিদ্দিকীর বিয়ে হয় ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। এক মাসের পরিচয়ের পরই বিয়ে করেছিলেন বলে জানান বাঁধন। বিয়ের পাঁচ মাস পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন এবং এরপর বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে আর স্বামীর বাসায় ফেরেননি। বর্তমানে মেয়েকে নিয়ে একাই থাকেন এই অভিনেত্রী।

ইতালির ভেনিসে হামলার শিকার হন বাঁধন। ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষণের শিকার
বিয়ের পর জোর করে বাঁধনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন তার স্বামী। বিষয়টিকে তিনি ধর্ষণ হিসেবেই দেখেন। এ বিষয়ে বাঁধন বলেন, ‘আমার প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ির লোকজন পড়াশোনা করতে দিত না। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ পুরো ছিন্ন করে দিতে বাধ্য করেছিল। প্রথমে আমি মেনে নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এ ভাবেই হয়তো থাকতে হয়। অনেকেই উপদেশ দিয়েছিলেন, এসব সমস্যার সমাধান হলো বাচ্চা। কিন্তু কাউকে বোঝাতে পারিনি, আমি বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার।’
বাঁধন কি জুলাই জঙ্গি?
গত আড়াই বছরে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ইতালির ভেনিসে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত হয়েছেন বাঁধন। নিজের ফেসবুক ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেন, কয়েকজন বাঙালি তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে পানি ও কোমল পানীয় ছুড়ে মারেন, ফোন ফেলে দেন এবং কানে আঘাত করেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের কথাও জানা গেছে।
কেন এত বিতর্ক?
বাঁধনকে ঘিরে বিতর্কের বড় কারণ তার সুযোগসন্ধানী অবস্থান, রাজনৈতিক অবস্থানের দৃশ্যমান পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগের ছবি ও বক্তব্য। একসময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ পরিসরে দেখা গেলেও পরে তাকে কথিত জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় মুখ হিসেবে সামনে আসতে দেখা যায়। ফলে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এর সঙ্গে বিদেশে হেনস্তা, ব্যক্তিজীবন ও নানা বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক যোগ হয়ে বাঁধনকে নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au