চীনের ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বাংলাদেশ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- বাংলাদেশ চীনের তৈরি ২৪টি জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চীন বা বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি। এদিকে চীনা এক সামরিক বিশ্লেষক বলেছেন, বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আগ্রহ প্রমাণ করে যে, চীনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক শিল্পের সক্ষমতা বিশ্বব্যাপী ক্রমেই বেশি স্বীকৃতি পাচ্ছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং এএনআই, ঢাকাভিত্তিক ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডেইলি ওয়াদার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত ২৪ থেকে ২৬ জুন প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ২৪টি জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারে।
ডেইলি ওয়াদার এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করছে সরকার। তবে ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এই আলোচনা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
যদি এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি হবে চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক রপ্তানি। বর্তমানে চীনের বাইরে শুধু পাকিস্তান বিমানবাহিনী এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চীনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ ধরনের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড দাবি করেছিল, সরকারি নথির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ২২০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে। এর উদ্দেশ্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আধুনিক করা এবং দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা।
সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় শুধু যুদ্ধবিমান নয়, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে সরকার-টু-সরকার চুক্তি অথবা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০টি অর্থবছরে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
চীনের বেইজিংভিত্তিক অ্যারোস্পেস নলেজ সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক এবং সামরিক বিশ্লেষক ওয়াং ইয়ানান গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশ এর আগে চীনের তৈরি জে-৭ যুদ্ধবিমান এবং কিউ-৫ আক্রমণকারী বিমান সংগ্রহ করেছে। তবে জেএফ-১৭ কিংবা জে-১০ সিরিজের যুদ্ধবিমান এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয়নি।
তার মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান যুদ্ধবিমান বহরের বড় অংশই পুরোনো হয়ে গেছে। ফলে আধুনিক যুদ্ধবিমান দিয়ে বহর নবায়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
ওয়াং ইয়ানান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চীনের সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থাকায় বাংলাদেশ এসব প্ল্যাটফর্মের ওপর একটি নির্দিষ্ট মাত্রার আস্থা অর্জন করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, একদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলো এখনো বিভিন্ন উৎস থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যদিকে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য একটি বড় আর্থিক বিনিয়োগ হবে।
চীনা এই সামরিক বিশ্লেষকের মতে, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ব্যাপক আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের পর থেকে অনেক দেশ কেবল কাগজে-কলমে দেওয়া কারিগরি তথ্যের ভিত্তিতে নয়, বাস্তব কার্যকারিতার দিক থেকেও চীনের সামরিক সরঞ্জাম মূল্যায়ন শুরু করেছে।
তার ভাষায়, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদনমান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনা সামরিক সরঞ্জামের গ্রহণযোগ্যতা এবং আস্থা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্রঃ গ্লোবাল টাইমস